শরীরের অতিরিক্ত ওজন শুধু ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বড় গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
বিখ্যাত গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিশ্বের ২২৬টি বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ ক্যান্সার রোগীর তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষকদের মতে, শরীরের ভরসূচক বা বিএমআই যত বাড়ে, ততই কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
বিএমআই হলো একজন মানুষের উচ্চতা ও ওজনের ভিত্তিতে শরীরের ওজন স্বাভাবিক, কম নাকি বেশি—তা নির্ধারণের একটি সূচক। সাধারণভাবে বিএমআই ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূলতা ধরা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিএমআই প্রতি ৫ পয়েন্ট বাড়লে জরায়ুর আস্তরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৫৮ শতাংশ এবং খাদ্যনালির এক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া রক্তের ক্যান্সার, নন-হজকিন লিম্ফোমা, মূত্রথলির ক্যান্সার এবং কিছু এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
তবে গবেষণায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে বেশি বিএমআই থাকা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মেনোপজের আগে হওয়া স্তন ক্যান্সার, কখনও ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ফুসফুসের একটি ক্যান্সার এবং খাদ্যনালির আরেক ধরনের ক্যান্সার। তবে গবেষকদের স্পষ্ট বক্তব্য, এর অর্থ এই নয় যে স্থূলতা শরীরের জন্য উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে ইনসুলিন ও ইস্ট্রোজেনসহ বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন শরীরে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বজুড়েই গত কয়েক দশকে স্থূলতার হার দ্রুত বেড়েছে। ভারতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা, সুষম খাদ্য খাওয়া, অতিরিক্ত তেল, ময়দা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মাধ্যমে স্থূলতা ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত নানা রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

No comments:
Post a Comment