পুনের অত্যন্ত বিতর্কিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সিয়া এবং চেতন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, ঘটনার আগে চেতন চৌধুরী 'ক্রাইম পেট্রোল' টিভি শো-এর বেশ কয়েকটি পর্ব দেখেছিলেন, যাতে অপরাধের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে কীভাবে এড়ানো যায় তা শিখতে পারেন। তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সত্য উদঘাটনের জন্য কাজ করছে।
৩৭টি স্থানে কেতনকে হত্যার মহড়া! পুলিশ সিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রের ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
সিয়া এবং চেতনের বক্তব্যে অসঙ্গতি
অন্যদিকে, দুই অভিযুক্তের বক্তব্য মিলছে না এবং এতে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। পুলিশ বলছে যে, দুজনেই একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। এটি মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। রহস্য সমাধানের জন্য, পুলিশ সত্য উদঘাটনে তাদের দুজনের ওপর পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর) পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিয়া পরীক্ষার জন্য অনুমতি দিয়েছেন এবং পুলিশ আদালত থেকে অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
১৮ই জুন লোহগড় দুর্গে কেতনকে হত্যা করা হয়।
পুলিশের মতে, ২৫ বছর বয়সী কেতন আগরওয়ালকে ১৮ই জুন লোহগড় দুর্গের কাছে একটি পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। কেতন ও সিয়ার বাগদান হয়েছিল এবং তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, যার জন্য তারা ১৭ কোটি টাকা মূল্যের একটি প্রাসাদ বুক করেছিল। তদন্তে জানা গেছে যে, সিয়া ও চেতনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেতনকে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তারা গত এক বছর ধরে একসাথে ছিল। তাই, তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা একটি পরিকল্পনা করে। পুলিশের দাবি, এই ষড়যন্ত্রটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল।
সিয়ার বাড়িতে তল্লাশি
বৃহস্পতিবার পুনে পুলিশ সিয়া গোয়ালের বাড়িতে পৌঁছে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময়, ঘটনার দিন তার পরা পোশাকগুলো জব্দ করা হয়। একটি মোবাইল ফোনসহ বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে। এই সমস্ত জিনিস এখন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পুলিশ মনে করে, এই প্রমাণগুলো অপরাধের আগে ও পরে অভিযুক্ত দুজন কী করেছিল এবং তারা কার সাথে যোগাযোগে ছিল তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে।
তদন্ত অব্যাহত রেখে পুলিশ সিয়া গোয়েলকে পুনের লুল্লানগর এলাকার সেই পাহাড়ে নিয়ে যায়, যেখানে কথিত হত্যাকাণ্ডের মহড়া দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ পুরো ঘটনাটি পুনর্গঠন করে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এরপর সিয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment