সিন্ধু নদীর জল নিয়ে ভারতের কড়া অবস্থানে চাপে পাকিস্তান, দিল্লির কাছে তিনটি আবেদন - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, July 1, 2026

সিন্ধু নদীর জল নিয়ে ভারতের কড়া অবস্থানে চাপে পাকিস্তান, দিল্লির কাছে তিনটি আবেদন


 সিন্ধু নদীর জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থানের পর পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের সিন্ধু জল কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, দেশটির জন্য এই বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।

তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে চেনাব নদীর জলের প্রবাহে অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এ নিয়ে পাকিস্তান চারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই আধিকারিক বলেন, চেনাব নদীর জলের প্রবাহে এই পরিবর্তনের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির তথ্য ভারতের জানানো উচিত। তাঁর দাবি, ভারতের নীরবতা পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, নদীর নিম্নপ্রবাহে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে এই বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই জলপ্রবাহের এমন পরিবর্তনকে সাধারণ ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এই ধরনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্যই দুই দেশের মধ্যে যৌথ জল কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

পাকিস্তানের অভিযোগ, তারা চুক্তির নিয়ম মেনে তথ্য আদান-প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ভারত সহযোগিতা করছে না। তাদের দাবি, দুই দেশের আধিকারিকদের মধ্যে শেষ সরেজমিন পরিদর্শন হয়েছিল দুই হাজার তেইশ সালের আগস্ট মাসে। এরপর থেকে নিয়মিত তথ্য বিনিময়ও বন্ধ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ভারতের কাছে তিনটি আবেদন জানিয়েছে। প্রথমত, দুই দেশের জল কমিশনের বৈঠক দ্রুত ডাকা হোক। দ্বিতীয়ত, নদীর জলসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান আবার শুরু করা হোক। তৃতীয়ত, দুই দেশের আধিকারিকদের পারস্পরিক পরিদর্শন ও যৌথ পর্যবেক্ষণ পুনরায় চালু করা হোক।

এছাড়াও পাকিস্তানের দাবি, সীমান্ত সংলগ্ন একটি ব্যারাজের মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতে প্রয়োজনে জল ছেড়ে দেওয়া বা আটকে রাখার ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এতে চেনাব নদীর জলপ্রবাহের ওপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তাদের আশঙ্কা।

পাশাপাশি চেনাব-বিয়াস সংযোগ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চেনাব নদীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জল অন্যদিকে প্রবাহিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad