চন্দ্রশেখরের শতবর্ষে ফিরছে পুরনো প্রশ্ন, কেন মাত্র ২২৩ দিনেই শেষ হয়েছিল তাঁর সরকার? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 3, 2026

চন্দ্রশেখরের শতবর্ষে ফিরছে পুরনো প্রশ্ন, কেন মাত্র ২২৩ দিনেই শেষ হয়েছিল তাঁর সরকার?


 ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের জন্মশতবর্ষে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, আদর্শ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি এমন এক নেতা, যিনি স্বল্প সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হলেও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও সংলাপভিত্তিক রাজনীতির জন্য আজও স্মরণীয়।

১৯২৭ সালের ১৭ এপ্রিল উত্তর প্রদেশের বলিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন চন্দ্রশেখর। ছাত্রজীবন থেকেই সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দলের তরুণ ও সংস্কারপন্থী নেতাদের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। সেই সময় তাঁকে 'ইয়ং টার্ক' নামে অভিহিত করা হতো। পরে তিনি জনতা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

১৯৯০ সালে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং সরকারের পতনের পর জনতা দল থেকে বেরিয়ে এসে নিজের গোষ্ঠী গঠন করেন চন্দ্রশেখর। কংগ্রেসের বাহ্যিক সমর্থনে ১৯৯০ সালের ১০ নভেম্বর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তবে কংগ্রেস সমর্থন প্রত্যাহার করায় মাত্র ২২৩ দিনের মধ্যেই তাঁর সরকারের পতন ঘটে।

চন্দ্রশেখরের প্রধানমন্ত্রিত্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির একটি ছিল অযোধ্যা বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ। তাঁর সরকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও সরকার পতনের কারণে সেই উদ্যোগ পূর্ণতা পায়নি। তবে তিনি সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করেছিলেন—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

চন্দ্রশেখরের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে রাজ্যসভার উপ-সভাপতি ও সাংবাদিক হরিবংশ এবং প্রবীণ সাংবাদিক নীরজা চৌধুরী তাঁদের বইয়ে নানা তথ্য ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেছেন। সেখানে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অযোধ্যা ইস্যুতে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। তবে বইগুলিতে বর্ণিত কিছু ঘটনা লেখকদের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার, স্মৃতিচারণ বা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে লেখা; সেগুলিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে দেখা উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে জোট রাজনীতি, মতাদর্শগত বিভাজন এবং রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে চন্দ্রশেখরের চিন্তাভাবনা আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাঁর বিশ্বাস ছিল, জটিল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

স্বল্প মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হলেও চন্দ্রশেখর ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। জন্মশতবর্ষে তাঁকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা সেই ইতিহাসকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad