দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন কবে চালু হবে? বড় আপডেট দিলেন রেলমন্ত্রী, দ্রুত এগোচ্ছে প্রকল্পের কাজ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, July 5, 2026

দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন কবে চালু হবে? বড় আপডেট দিলেন রেলমন্ত্রী, দ্রুত এগোচ্ছে প্রকল্পের কাজ


 ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠলেও এবার আশাব্যঞ্জক বার্তা দিল কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর দাবি, মুম্বই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ধাপে ধাপে পরিষেবা চালু করা হবে।

কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রায় আশি শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেতু, ভায়াডাক্ট, স্টেশন, রেলপথ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে গুজরাটের সুরাট থেকে বিলিমোরা পর্যন্ত অংশে বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালুর লক্ষ্য রাখা হয়েছে দুই হাজার সাতাশ সালের মধ্যে। এরপর পর্যায়ক্রমে ভাপি, আহমেদাবাদ এবং শেষ পর্যন্ত মুম্বই পর্যন্ত সম্পূর্ণ করিডর চালু করা হবে।

রেল মন্ত্রীর মতে, এই প্রকল্প শুধু একটি দ্রুতগতির ট্রেন পরিষেবা নয়, বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করবে। আধুনিক রেলস্টেশন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে শিল্প, ব্যবসা, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে কেন্দ্রের আশা।

এই উচ্চগতির রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় দুই হাজার সতেরো সালের সেপ্টেম্বর মাসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে যৌথভাবে এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। প্রায় পাঁচশো আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি দেশের প্রথম উচ্চগতির রেলপথ হিসেবে তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই হাজার তেইশ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণে সেই সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

প্রকল্পে বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। এর পাশাপাশি করোনা মহামারির সময়ে প্রায় দুই বছর নির্মাণকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। শ্রমিক সংকট, সরঞ্জাম সরবরাহে সমস্যা এবং বিধিনিষেধের কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি অনেকটাই ধীর হয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় এক লক্ষ দশ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। কিন্তু দীর্ঘ বিলম্ব, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পরিকাঠামোগত কাজের কারণে মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় এক লক্ষ ষাট হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলের অনুমান।

মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত এই উচ্চগতির ট্রেনে মোট বারোটি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে নয়টি গুজরাটে এবং তিনটি মহারাষ্ট্রে অবস্থিত। মুম্বইয়ের টার্মিনাল স্টেশনটি সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ হবে, যা দেশের অন্যতম আধুনিক রেল অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অধিকাংশ রেলপথ উঁচু ভায়াডাক্টের উপর নির্মিত হচ্ছে, যাতে জনবসতি ও সড়ক যোগাযোগে প্রভাব কম পড়ে।

এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে জাপানের বিশ্বখ্যাত শিনকানসেন প্রযুক্তি, যা বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির রেল ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় তিনশো কুড়ি কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বর্তমানে যেখানে মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ যেতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে বুলেট ট্রেন চালু হলে সেই সময় কমে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে নেমে আসতে পারে।

যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অত্যাধুনিক সংকেত ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, ভূমিকম্প শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। ট্র্যাকে কোনও লেভেল ক্রসিং থাকবে না, ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও অনেক কম থাকবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad