রাতভর পুলিশি ঘেরাটোপ, হাউস অ্যারেস্টের অভিযোগে সরব মমতা, সকালেই বদলে গেল কালীঘাটের ছবি - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, July 6, 2026

রাতভর পুলিশি ঘেরাটোপ, হাউস অ্যারেস্টের অভিযোগে সরব মমতা, সকালেই বদলে গেল কালীঘাটের ছবি


 বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনার আবহের মধ্যেই রবিবার রাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বারুইপুরে যাওয়া থেকে বিরত রাখতেই বাড়ির চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

সোমবার সকালে পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। রাতের অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য নির্ধারিত নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাই বহাল থাকে।

বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রবিবার থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দেহ উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ, এক অভিযুক্তের গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও আক্রান্ত হন।

এই ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিহতের বাবার সঙ্গে ফোনেও কথা বলেন। তবে রবিবার সন্ধ্যার পর তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁকে কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি একাই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে সেই পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। বারুইপুরের ঘটনাও সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর বাড়ির সামনে এত বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন কেন, যখন এলাকায় কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল না।

অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের দাবি, বিষয়টিকে অযথা রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad