সাম্প্রতিক ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের সাফল্যকে গণতন্ত্রের শক্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যুবসমাজ চাইলে সবচেয়ে শক্তিশালী সরকারকেও সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করতে পারে। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, গণতন্ত্রের আসল শক্তি জনগণের হাতেই রয়েছে।
আন্দোলনের সাফল্যের জন্য ছাত্র-যুবদের অভিনন্দন জানিয়ে অভিষেক বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাঁদের এই লড়াই ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এই আন্দোলনের সময় সমাজের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। বিশেষ করে চলচ্চিত্র জগতের তারকা, ক্রীড়াবিদ এবং জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নীরবতা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের ছাত্রসমাজ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও বহু পরিচিত মুখ প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। এই নীরবতা সাধারণ মানুষের নজর এড়ায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিষেকের মতে, শুধু জনপ্রিয় হলেই কাউকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। তরুণদের উচিত, যাঁদের তাঁরা অনুসরণ করেন, তাঁরা সমাজের সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান কি না, সেটাও বিবেচনা করা। কারণ জনপ্রিয়তা মানুষের ভালোবাসা থেকেই আসে, তাই সেই মানুষের প্রতি দায়িত্বও থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি লাইক, শেয়ার, ভিউ বা ফলো শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার সংখ্যা নয়। এগুলোর মাধ্যমে মানুষ পরোক্ষভাবে কাউকে সমর্থনও করে। তাই কাকে সমর্থন করা হবে, সেই সিদ্ধান্তও সচেতনভাবে নেওয়া উচিত।
বার্তার শেষে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যেমন কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করার আগে মানুষ ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়, তেমনই নিজের সময়, মনোযোগ এবং ডিজিটাল সমর্থনও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন। যাঁরা প্রয়োজনের সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান না, তাঁদের প্রতি অন্ধ সমর্থন দেখানোর আগে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বার্তা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

No comments:
Post a Comment