ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ জুলাই ২০২৬: ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তিনি নিজেই রবিবার এই ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতা সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন যে, তিনি ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। এই বিষয়ে রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করেছেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি এখন আগের চেয়ে বয়স্ক এবং তাঁর শক্তিও কমে গেছে, তাই তিনি পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। পাশাপাশি বর্তমান রাজনীতির বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার মান্ডিয়া জেলার কে.আর. পেটে অনুষ্ঠিত একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন সিদ্দারামাইয়া। তিনি বলেন, "আজকের রাজনৈতিক ক্ষেত্র দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই, আমি ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। তবে, রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও আমি মানুষের সুখ-দুঃখের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকব।"
তিনি বলেন, "বরুণা নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমাকে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অনুরোধ করে আসছিলেন। কিন্তু আমি আর কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে যখন আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতাম, তখন নির্বাচনী এলাকার মানুষই আমাদের টাকা দিতেন। আমাদের জয় নিশ্চিত করতেন, কিন্তু এখন আর তেমনটা হয় না।"
নিজের বয়সের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমার বয়স এখন ৭৯ বছর। আমাদের সরকারের মেয়াদ শেষ হতে এখনও দেড় বছর বাকি। ততদিনে আমার বয়স হবে ৮১-৮২ বছর। আমার স্বাস্থ্য এখন আর আগের মতো নেই। আগের মতো একই আবেগ ও উৎসাহ নিয়ে কাজ করা আর সম্ভব নয়।"
তিনি বলেন, "২০২৮ সাল নাগাদ আমার বয়স হবে ৮২ বছর। এর মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হবে। ১৯৭৮ সালে তালুক বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। আমি পরাজয় ও বিজয় উভয়ই দেখেছি। কিন্তু আমি সন্তুষ্ট যে, আমি যে নীতিতে বিশ্বাস করতাম তার বিরুদ্ধে কখনও কাজ করিনি কিংবা নিজের বিবেকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি।"
তিনি বলেন, "এখন এমন এক সময় এসেছে যখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে মানুষকে টাকা দিতে হবে। আজকের রাজনীতি পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সৎ রাজনীতির আর কোনও জায়গা অবশিষ্ট নেই। এই পরিস্থিতিতে আমি ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাঁচ দশক ধরে রাজ্যের মানুষ আমাকে আপন করে নিয়েছেন এবং ভালোবাসার সঙ্গে পথ দেখিয়েছেন। আমি তাঁদের কাছে ঋণী। তাই আমার ভবিষ্যৎ জীবনও জনসেবায় উৎসর্গীকৃত থাকবে।"
এদিনের এই বক্তব্যই এদিন সমাজমাধ্যম পোস্টে তুলে ধরেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

No comments:
Post a Comment