নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মধ্যে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সরকারের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছেন। এবার নজর কেন্দ্রীয় সরকার ও ককরোজ জনতা পার্টি (CJP)-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে।
শুক্রবার দুপুর ১২:৩০ মিনিটে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়া-তে CJP-র প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। CJP-র অনুরোধে কোনও সরকারি দফতরের বদলে নিরপেক্ষ জায়গায় এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
CJP-র চারটি প্রধান দাবি
বৈঠকে CJP সরকারের সামনে চারটি মূল দাবি তুলে ধরবে। সেগুলি হল—
নিট প্রশ্নফাঁসের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
প্রশ্নফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR প্রত্যাহার।
আন্দোলনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
এছাড়াও ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কারের দাবিও জানাবে দলটি।
আন্দোলন কি থামবে?
CJP-র মুখপাত্রদের দাবি, সরকার আলোচনায় রাজি হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। ফলে শুক্রবারের বৈঠক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন কেন ভাঙল?
বৃহস্পতিবার রাতে মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেন। সরকার লিখিতভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও FIR দায়ের করা হবে না।
পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হবে।
নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত বা আত্মহত্যায় প্ররোচিত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং কঠিন আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এখন সবার নজর আজকের বৈঠকের দিকে। সরকার ও CJP-র মধ্যে আলোচনায় কতটা সমঝোতা হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আন্দোলনের পরবর্তী পথ।

No comments:
Post a Comment