দলবদলের পর অভিষেককে নিশানা মদন মিত্রের, তৃণমূলের অন্দরে নতুন বিতর্ক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, July 15, 2026

দলবদলের পর অভিষেককে নিশানা মদন মিত্রের, তৃণমূলের অন্দরে নতুন বিতর্ক


 কয়েক দিন আগেও দলীয় অবস্থান নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেলেও বুধবার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। দলবদলের পরই সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি।

বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র দাবি করেন, দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতামতও অনেক সময় গুরুত্ব পেত না। তাঁর অভিযোগ, এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে দলের ভেতরে একজনের সিদ্ধান্তই শেষ কথা বলে বিবেচিত হতো। এতে সংগঠনের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মদন বলেন, তিনি তদন্তকারী সংস্থার চেয়েও বেশি ভয় পেতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর কথায়, কখন কার বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের অনেকের মধ্যেই অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি ছিল।

অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও এদিন উড়িয়ে দেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি অর্থ বা অন্য কোনও সুবিধার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছেন, তাহলে তিনি সেই অভিযোগ মেনে নেবেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের সমর্থনই তাঁর রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মদন মিত্র। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন সফল হতে পারে না। শুধু বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দলের নির্বাচনী কৌশল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সেই কৌশল কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শেষে মদন মিত্র বলেন, একসময় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা একটি দল ধীরে ধীরে সেই শক্তি হারিয়েছে। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মদন মিত্রের এই দলবদল এবং দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad