বিনোদন ডেস্ক ১৫ জুলাই ২০২৬: ফিফা বিশ্বকাপ বর্তমানে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতের লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমীরাও ম্যাচগুলো দেখার জন্য মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত জেগে থাকছেন। কিন্তু আপনি যদি আপনার প্রিয় দলকে সমর্থন করার জন্য প্রতি রাতে আপনার ঘুম বিসর্জন দেন, তবে সাবধান! একটি নতুন গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে, টানা ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে মাত্র ৯০ মিনিট ঘুম কম হলেও ওজন বাড়তে পারে। এর মানে হল, টুর্নামেন্ট জুড়ে যদি আপনার ঘুম কমতে থাকে, তবে তা আপনার ওজন এবং কোমরের পরিধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যাচের উত্তেজনা, কিন্তু ঘুমের ক্ষতি -
ফিফা বিশ্বকাপের অনেক ম্যাচ ভারতীয় সময় অনুযায়ী মধ্যরাতে বা ভোরবেলা খেলা হচ্ছে। এর ফলে, হাজার হাজার ভক্ত ম্যাচের শেষ পর্যন্ত জেগে থাকছেন এবং পরের দিন সামান্য ঘুম নিয়ে কাজে যাচ্ছেন। ডাক্তাররা বলছেন যে, যদি এটি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে এর প্রভাব কেবল ক্লান্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ৯০ মিনিট... এটা একটি ফুটবল ম্যাচের ঘুমের সমান।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন। মজার ব্যাপার হল, এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন প্রায় ৯০ মিনিট কম ঘুমাতে বাধ্য করা হয়েছিল। একটি ফুটবল ম্যাচও প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে। এই কারণেই যারা গভীর রাত পর্যন্ত একটানা ম্যাচ দেখেন, সেইসব ভক্তদের জন্য এই গবেষণাটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এতে এমন ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা সাধারণত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমান। তাদের টানা ছয় সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে প্রায় ৯০ মিনিট দেরিতে ঘুমাতে বলা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই সময়কালে অংশগ্রহণকারীদের গড়ে প্রায় ৪৫০ গ্রাম ওজন বেড়েছে।
ঘুমের অভাব কেন ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়?
গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, যাদের ঘুম কমে গেছে, তারা আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে বসে থাকার প্রবণতা দেখিয়েছেন। এর অর্থ হল শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া, যা ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, ঘুমের অভাব ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে মিষ্টি, ভাজা এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে। শরীরও ক্লান্ত বোধ করে, যার ফলে কার্যকলাপ কমে যায়।
ম্যাচ দেখুন, আপনার স্বাস্থ্য রক্ষা করুন -
আপনি যদি বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ মিস করতে না চান, তাহলে পরের দিন পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দিনের বেলা অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নেওয়া, সকালে হালকা ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত কফি বা চা পরিহার করা এবং একটানা অনেক রাত জেগে থাকা এড়িয়ে চলা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে। সর্বোপরি, বিশ্বকাপ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু ঘুমের অভাব যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

No comments:
Post a Comment