কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ১৮ দিন ধরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি এক আবেগঘন আবেদন জানিয়ে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে তিনি তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
চিঠিতে থারুর স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো রাজনীতিবিদ বা সাংসদ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ভারতীয় হিসেবে কথা বলছেন, যিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি হওয়া অবিচারে গভীরভাবে মর্মাহত।
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন বেতনভোগী সংবাদপত্র কর্মী এবং মা ছিলেন গৃহিণী। সীমিত আয়ের সংসারে তিন সন্তানের পড়াশোনা চালাতে তাঁদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। তাই তাঁর কাছে মেধা, সুষ্ঠু পরীক্ষা ও স্বচ্ছ ফলাফলই ছিল জীবনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র ভরসা।
থারুর বলেন, তিনি মুম্বই ও কলকাতায় পড়াশোনা করেছেন, পরে দিল্লিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। নিজের যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি লাভ করেন। তিনি দাবি করেন, জীবনের প্রতিটি সাফল্যই কঠোর পরিশ্রম ও মেধার ভিত্তিতে অর্জিত।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল বা নিয়োগে অনিয়মের মতো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণরা। ধনী ও প্রভাবশালীদের সামনে অন্য সুযোগ থাকলেও সাধারণ পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের উদ্দেশে থারুর বলেন, "তোমাদের ক্ষোভ শৃঙ্খলার অভাব নয়, এটি এমন একটি প্রজন্মের যন্ত্রণা, যারা সবকিছু ঠিকভাবে করেও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছে। তোমরা একা নও।"
১৮ দিন ধরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের উদ্দেশে তিনি লেখেন, "আপনি জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। অনশনের উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। এখন দেশের আপনার কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন। তাই অনুগ্রহ করে অনশন ভেঙে সুস্থ হয়ে উঠুন।"
থারুর আরও জানান, সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ায় ছাত্র-যুবকদের সমস্যা সংসদে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, এই সংকটের সমাধান অনশনের মাধ্যমে নয়, বরং সংসদীয় আলোচনা ও গণতান্ত্রিক সংলাপের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
শেষে তিনি কেন্দ্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে দ্রুত সংলাপ শুরু করে তাঁদের উদ্বেগের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তাঁর কথায়, "এটি দুর্বলতার পরিচয় নয়, বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার প্রমাণ।"

No comments:
Post a Comment