দল ভাঙার পর প্রথম একুশে জুলাইয়ে কড়া বার্তা মমতার, দলত্যাগী ও শুভেন্দুকে একসঙ্গে নিশানা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, July 21, 2026

দল ভাঙার পর প্রথম একুশে জুলাইয়ে কড়া বার্তা মমতার, দলত্যাগী ও শুভেন্দুকে একসঙ্গে নিশানা



দল ভাঙার পর প্রথম একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে এ বছর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমী। একদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির আলাদা কর্মসূচি পালন করে। অন্যদিকে বিড়লা তারামণ্ডল সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকে বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি দল ছেড়ে চলে যাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।

ভাষণের শুরুতেই দলত্যাগীদের নিশানা করে মমতা বলেন, যারা নতুন রাজনৈতিক শিবির গড়েছে, তারা কার্যত বিজেপিকেই সুবিধা করে দিচ্ছে। নাম না করেই তিনি ওই শিবিরকে বিজেপির সহযোগী বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য পথে গিয়েছেন, তারা দলের কোনও ক্ষতি করতে পারবেন না। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি বিজেপির পক্ষেই কাজ করতে হয়, তবে আড়াল না করে সরাসরি সেই দলে যোগ দেওয়াই উচিত। একই সঙ্গে তিনি জানান, দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের জায়গা নতুন প্রজন্মের ছাত্র ও যুব কর্মীরাই পূরণ করবে।

এরপর শুভেন্দু অধিকারীকে ইঙ্গিত করে মমতা আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথ বেছে নিয়েছে এবং তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে থাকাকালীন তাঁর সব ভূমিকার কথা তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরবেন।

মমতা স্মরণ করিয়ে দেন, শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘ সময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মন্ত্রী ছিলেন। পরিবহণ, সেচসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল। সেই সময়ের সমস্ত কাজ ও ভূমিকা সম্পর্কে তিনি অবগত বলেও দাবি করেন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে সাময়িকভাবে চুপ করানো গেলেও তাতে দলের প্রকৃত শক্তি কমে না। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত তৃণমূল তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। শুধু নতুন সাইনবোর্ড লাগালেই কোনও দল মানুষের সমর্থন পেয়ে যায় না। তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন নেতা দল ছাড়লেও অধিকাংশ কর্মী এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন।

দলত্যাগীদের উদ্দেশে শেষবারের মতো কটাক্ষ করে মমতা বলেন, তাঁদের আর দলের প্রয়োজন নেই। নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখেই আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি ফের দাবি করেন, যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য শিবিরে গিয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন স্পষ্ট এবং তারা শেষ পর্যন্ত বিজেপির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

দল ভাঙার পর প্রথম একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধারাবাহিক আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad