রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে হুগলির রিষড়ায় সংঘটিত হিংসার ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া স্থানীয় কাউন্সিলর শাকির আলিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালতে সংস্থার দাবি, ওই দিনের অশান্তির ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং হামলার জন্য ইট ও বোমা জোগাড়ের ব্যবস্থাও তাঁর নির্দেশেই করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এই মামলাটি দুই হাজার তেইশ সালের রামনবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে রিষড়ায় ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক হিংসার সঙ্গে সম্পর্কিত। সে সময় এলাকায় বোমাবাজি, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের একাধিক ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, শাকির আলিকে গ্রেফতারের পর আদালতের কাছে তাঁকে দু'দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত যদি বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশও দেয়, সেক্ষেত্রেও জেলেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়েছে সংস্থাটি।
তদন্তকারীদের দাবি, শাকির আলির বাড়ি থেকে ছত্রিশ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে, সেগুলি এক ধরনের অস্ত্রের জন্য নয়। তাই কার্তুজগুলির প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
শুনানির সময় বিচারক জানতে চান, ঘটনাটি কয়েক বছর আগের হলেও এখন কেন হেফাজতের প্রয়োজন হচ্ছে। জবাবে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, এতদিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি তদন্তে তিনি সহযোগিতা করছেন না বলেও আদালতে অভিযোগ করা হয়।
তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে জানান, স্থানীয় পুলিশের সংগ্রহ করা তথ্যের পাশাপাশি তিনি নিজেও ঘটনাস্থলের বিভিন্ন নজরদারি চিত্র সংগ্রহ করেছেন। সেই চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হিংসার সময় বহু গাড়িতে হামলা হলেও একটি সাদা রঙের গাড়ি অক্ষত ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই গাড়িটি শাকির আলি ব্যবহার করতেন। এছাড়া কয়েকটি নজরদারি চিত্রে তাঁকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিড়কে নেতৃত্ব দিতেও দেখা গেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment