নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: ইছামতি নদীর তীরে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল গেস্ট হাউস তথা হোটেল। হাইকোর্টের নির্দেশে এবারে সেখান চলল বুলডোজার। বুধবার থেকে শুরু হল গেস্ট হাউস দুটো ভাঙার কাজ। সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ বরদাস্ত নয়, দাবী প্রশাসনের। আর তাই আদালতের নির্দেশে ভেঙে ফেলা হচ্ছে সেগুলো। কাজে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিক ও টাকি পুরসভার কর্মীরা।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের টাকিতে ইছামতি নদীর পাড়ে সরকারি জমিতে ওই দুটি গেস্ট হাউস বেআইনিভাবে গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে মামলাও হয় কলকাতা হাইকোর্টে। দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে পুর কর্তৃপক্ষ এই ধরণের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। শুধু তাই নয়, আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে এটাও জানাতে হবে যে, আদালতের এই নির্দেশ কতটা কার্যকর করা হয়েছে।
আর আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই এদিন সকাল থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে টাকির দুটো গেস্ট হাউজ ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইছামতী নদীর তীরবর্তী সেচ দফতরের জমি দখল করে এই নির্মাণ করা হয়েছিল। এদিন বুলডোজার দিয়ে গেস্ট হাউজ দুটির বিভিন্ন অংশ ধাপে ধাপে ভাঙার কাজ শুরু হয়।
বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি নেতা শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, "টাকি পুরসভা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলাজুড়ে সুশাসন চলছে। হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ নির্মাণগুলি ভাঙা হয়েছে। তৃণমূলের অপশাসনের উদাহরণ ছিল এই গেস্ট হাউজগুলি।”
উল্লেখ্য, প্রশাসনের তরফে আগেই বার্তা দেওয়া হয়েছিল, সরকারি জমি দখল, নদী সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সেইমতোই এদিন কাজ শুরু হয়।

No comments:
Post a Comment