এই পোস্টের পরই দিল্লি পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে কেজরিওয়ালকে উদ্দেশ্য করে জানায়, যন্তর মন্তরের চলমান বিক্ষোভের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের কোনও বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে পুলিশ কেজরিওয়ালকে যাচাইবিহীন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার পরামর্শ দেয়। পুলিশ সাধারণ মানুষকেও শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের উপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।
কনট প্লেসে দোকান বন্ধের নির্দেশ কেন?
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে কনট প্লেসের দোকান, অফিস ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (NDTA) জানায়, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, এনডিএমসি (NDMC)-র পরামর্শের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ জারি করা হয়, যাতে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়।
যন্তর মন্তরের ১.৫ কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিযোগাযোগ আইন, ২০২৩ এবং টেলিযোগাযোগ (অস্থায়ীভাবে পরিষেবা স্থগিতকরণ) বিধিমালা, ২০২৪-এর আওতায় যন্তর মন্তরের ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। সরকারের বক্তব্য, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং কোনও জরুরি পরিস্থিতি এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৭ জুলাই থেকে একই ধরনের একাধিক নির্দেশ জারি হয়েছে।
কী নিয়ে আন্দোলন?
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোজ জনতা পার্টি (CJP)। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের যথাযথ তদন্ত হয়নি।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি—
পরীক্ষায় অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত,
শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সংস্কার,
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ,
প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
২০ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে আরও তীব্র হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর সমর্থনে কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা আরও জোরদার
দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তর ও সংসদ মার্গ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। অতীতের সংঘর্ষ, পাথর ছোড়া এবং কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক আহত হওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পোস্টকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবির সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ভুয়ো বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ালে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সেই ধরনের তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment