নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার আলোচনার নামে সময় নষ্ট করছে। কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে বিরোধীরা আলোচনায় অংশ নেবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদ চত্বরে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ হয়। খাড়গের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে নিজেদের ভবিষ্যতের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পড়ুয়াদের লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকার বিরোধীদের কণ্ঠও দমন করতে চাইছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, সরকার এই ইস্যুতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে চায় কেন্দ্র। তিনি জানান, যেখানে ছাত্ররা চাইবেন, সেখানেই আলোচনা হতে পারে। সরকারের কাছে এটি মর্যাদার প্রশ্ন নয়, বরং সমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত সিজেপি (CJP)-ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করেছেন। তাঁর নির্দেশ, দোষীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও বলেন, ছাত্রদের দাবি একেবারেই স্পষ্ট। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরাতে হবে, ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা মোদী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়ালও বিরোধীদের সংসদে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না করে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইন ও ব্যবস্থা গ্রহণের পথ তৈরি হবে।

No comments:
Post a Comment