নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া আন্দোলনের আবহ এবার পশ্চিমবঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিজেপি। শুক্রবার কলকাতায় ছাত্র সংগঠনগুলির কর্মসূচির আগে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দলের নেতারা জানিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কোনও আপত্তি নেই, তবে আন্দোলনের আড়ালে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক বিমলশঙ্কর নন্দ এবং রাজ্য যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক আশিস বিশ্বাস।
তাপস রায় বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্র দ্রুত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাঁর দাবি, তারপরও কিছু রাজনৈতিক শক্তি এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে থেকেও পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা চলছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না এবং পুলিশ-প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রের ব্যয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তাপস রায়। তাঁর দাবি, আগের সরকারের তুলনায় বর্তমানে শিক্ষা খাতে অনেক বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি রাজ্যবাসীর কাছে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানান।
বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দিল্লিতে চলা আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের শুরুতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যু থাকলেও পরে সেখানে এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি ও বিতর্কিত স্লোগান উঠে এসেছে, যার সঙ্গে ছাত্রদের স্বার্থ বা পরীক্ষার কোনও সম্পর্ক নেই। তাই আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই নিট প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা করেছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শুক্রবার কলকাতায় ছাত্র সংগঠনগুলির কর্মসূচি প্রসঙ্গে তাপস রায় স্পষ্ট জানান, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে যদি হিংসা, ভাঙচুর বা জনজীবন ব্যাহত করার চেষ্টা হয়, তাহলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আন্দোলন ও পাল্টা রাজনৈতিক অবস্থানের জেরে আগামী কয়েক দিনে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

No comments:
Post a Comment