ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান বিশ্বে ভারত এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে নিরাপত্তা ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সবসময়ই বিদ্যমান। যদিও তিনি কোনও প্রতিবেশী দেশের নাম উল্লেখ করেননি, আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, তাঁর ইঙ্গিত ছিল চীন ও পাকিস্তানের দিকে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শেষ দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
প্রতিবেশী দেশগুলির চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ
ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরামের (USISPF) লিডারশিপ সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সার্জিও গোর বলেন, ভারত এমন এক ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে নানা ধরনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাঁর কথায়, ভারতের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের নেতৃত্বের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হয় এবং পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে বদলে যেতে পারে।
ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে
তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহু অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক প্রযুক্তি, বিমান শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, আগামী দুই বছর দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যার সুফল আগামী কয়েক দশক ধরে মিলবে।
বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে
সার্জিও গোর জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তির প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেবলমাত্র শেষ এক শতাংশ আলোচনা বাকি রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রায় ১৮ মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর খুব শিগগিরই এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হবে।
ইউরোপের তুলনায় অনেক দ্রুত অগ্রগতি
চুক্তি সম্পন্ন হতে সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে গোর বলেন, ইউরোপের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ করতে প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছিল। সেই তুলনায় ভারত-আমেরিকা চুক্তি মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া একটি বড় সাফল্য। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব এই চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মোদি ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব
সার্জিও গোর আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর দাবি, ট্রাম্প এখনও তাঁর আগের ভারত সফরের স্মৃতি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আবারও ভারত সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

No comments:
Post a Comment