তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে পরিচালিত বলে পরিচিত 'সেবাশ্রয়' স্বাস্থ্য পরিষেবা উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় এই প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি ওষুধের অপব্যবহার এবং একাধিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। এর ফলে এই প্রকল্পকে ঘিরে দায়ের হওয়া অভিযোগের সংখ্যা আরও বেড়ে গেল।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পের নামে ওষুধ ক্রয়, সংরক্ষণ এবং বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের পাশাপাশি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সুমিত ও জাহাঙ্গিরের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন জেলা শাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
বিজেপি নেতার বক্তব্য, গত জুন মাসে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সরিষা এলাকার হিঞ্চাবেড়িয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে কিছু ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পের যোগসূত্র রয়েছে এবং সেই বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, নিবন্ধন এবং বিধি মেনে চলা হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ওষুধ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ধরনের কার্যকলাপ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
বিজেপির অভিযোগ, এত গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পরেও পুলিশ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু করে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর্থিক লেনদেন, ওষুধ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা উচিত।
এদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। রাজ্য প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর দফতরের পক্ষ থেকে নতুন অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিরোধীদের দাবি, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, ওষুধ ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দোষ প্রমাণিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর থাকবে।

No comments:
Post a Comment