মিড ডে মিলে ডিম বন্ধ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নাম ছাঁটাই! দু'মাসের 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারকে ১৫ খোঁচা অভিষেকের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, July 7, 2026

মিড ডে মিলে ডিম বন্ধ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নাম ছাঁটাই! দু'মাসের 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারকে ১৫ খোঁচা অভিষেকের


কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকারের বয়স সবে মাত্র দু'মাস। আর এরই মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্ট করে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে গুনে গুনে ১৫টি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কটাক্ষের সুরে লিখেছেন, "বাংলায় বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের ১৫টি 'সাফল্য'- মাত্র দুই মাসে।"


অভিষেক তাঁর পোস্টের শুরুতেই শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের জোর করে দল ভাঙানোর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবী, বিধানসভায় বিজেপি এমন একজনকে 'প্রক্সি' বিরোধী দলনেতা বানিয়েছে, যিনি আসলে রাজ্য বিজেপির নির্দেশেই পুতুলের মতো কাজ করছেন। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলকে আর্থিক দিক থেকে পঙ্গু করে দিতে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা অ্যাকাউন্ট লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ। 


তাঁর অভিযোগ, হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীকে মামলায় জড়ানো। সম্ভাব্য সকল উপায়ে এআইটিসি-কে দুর্বল ও বিভক্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। 


রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিগত দু'মাসে রাজ্যে নাবালিকা-সহ অন্তত ১৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যোগ দিবসের নামে টানা সাত দিন রাস্তাঘাট বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। দিনের আলোয় সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার মত ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা হচ্ছে বলেও পোস্টে লিখেছেন অভিষেক। 


বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প থেকে প্রায় ১ কোটি প্রকৃত উপভোক্তার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদ। মিড-ডে মিলে ডিম না খাওয়ানো নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। অভিষেক লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম শিশুদের মধ্যাহ্নভোজ থেকে ডিম সরিয়ে নিরামিষ বিকল্প যোগ করা হয়েছে, যা শিশুদের প্রোটিনের একটি অত্যাবশ্যকীয় উৎস থেকে বঞ্চিত করছে।'


যোগী রাজ্যের 'বুলডোজার সংস্কৃতি' এখন বাংলাতেও থাবা বসিয়েছে বলে দাবী করেন অভিষেক। তিনি লিখেছেন, 'হকার ও প্রান্তিক মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে তাঁদের জীবিকা ধ্বংস করা হচ্ছে।'


তিনি আরও লিখেছেন, "যারা আপস করে ও পদলেহন করে, তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হয়; অথচ যারা মাথা নত করতে অস্বীকার করে, তাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যারা প্রতিরোধ অব্যাহত রাখে, তাদের বিরুদ্ধে সিআইডি, ইডি, এসটিএফ ও সিবিআই-এর নোটিশ ও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।"


"দিল্লীর ‘জমিদার’দের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হয়ে সওয়ালকারী সলিসিটর জেনারেল বারবার শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানান এবং বিচারব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন যাতে পশ্চিমবঙ্গবাসীর হয়ে লড়াইরত ব্যক্তিরা কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা সুরক্ষা না পান", তোপ অভিষেকের। 


সবশেষে তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, "বিজেপি যদি সত্যিই বিশ্বাস করে যে তারা জনগণের রায়ে পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে, তাহলে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ এবং তৃণমূলকে নিয়ে তাদের এত ভয় কেন?"


বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের ক্ষমতা হারালেও তৃণমূল যে এক ইঞ্চি জমিও বিজেপিকে ছেড়ে দিতে নারাজ, অভিষেকের এই ঝাঁঝালো পোস্টেরই তার প্রমাণ, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বড় একটা অংশ। এবারে তৃণমূল সাংসদের এই আক্রমণের পাল্টা কী জবাব শাসকদল বিজেপি দেয়, সেটাই এখন দেখার।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad