'ওনার মন্ত্রিত্বের তালিকাটাও দীর্ঘতম ছিল', মমতার হাত ছাড়তেই চন্দ্রিমাকে খোঁচা কুণালের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, July 4, 2026

'ওনার মন্ত্রিত্বের তালিকাটাও দীর্ঘতম ছিল', মমতার হাত ছাড়তেই চন্দ্রিমাকে খোঁচা কুণালের


 কলকাতা : তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শনিবারেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে রাজ্য সভাপতি-সহ সমস্ত পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। আর এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে তৃণমূল সুপ্রিমোকেই দায়ী করেছেন মমতার একদা আস্থাভাজন চন্দ্রিমা। দলনেত্রীর কথায় আহত হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই জানান অভিমানী চন্দ্রিমা। এরপরেই আরও চমক। বিধানসভায় পৌঁছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে ঋতব্রতদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। আর মমতার হাত ছেড়ে যাওয়ার পরেই চন্দ্রিমাকে কটাক্ষ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের।


তিনি বলেন, কারও কারও মনে হয় যাওয়ার। কুণাল বলেন, "দীর্ঘদিনের সাথী ছিলেন এবং ওনার মন্ত্রিত্বের তালিকাটাও দীর্ঘতম ছিল। তখন অভিমান হয়নি!"‌ ঋতব্রত-সন্দীপন সাহাদের সঙ্গে চন্দ্রিমার বৈঠকে যাওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন কুণাল। বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, "যতদিন গুরুত্বপূর্ণ সব দফতরগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওনাকে দিচ্ছিলেন, তখন অভিমান-টভিমান হয়নি গো!"


দলনেত্রীর কথায় আহত হয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এমনই বিস্ফোরক দাবী করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এ দিনই মমতার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি-সহ সমস্ত পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা।


চিঠি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, গত ৩ জুন তাঁকে যে পদে বসানো হয়েছিল, তা থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তৃণমূল এবং তার বিভিন্ন শাখা সংগঠনের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার সিগনেটরির দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন চন্দ্রিমা। নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব ছিল তাঁর। সেই দায়িত্বও ছেড়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। 


জানা গিয়েছে, গত ৩ জুন রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রায় প্রত্যেকদিনই নিয়ম করে মেট্রোপলিটানে তৃণমূলের পার্টি অফিসে যেতেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুক্রবারও তিনি গিয়েছিলেন। এমনকি চন্দ্রিমার উপস্থিতিতেই তৃণমূলের ঋতব্রত ভট্টাচার্যরা ওই পার্টি অফিসে ঢোকেন। এরপরই চন্দ্রিমা পার্টি অফিস ছাড়েন। আর এখান থেকেই নাকি শুরু মান-অভিমানের পালা!


এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন চন্দ্রিমা। তৃণমূল ভবন দখলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "গতকাল একটা ঘটনা হয়েছে যা সকলের জানা। বেশ কয়েকজন বিধায়ক গিয়েছিলেন। আমি যতক্ষণ ছিলাম ওই বিধায়করা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমি বাড়ি চলে আসার পর মমতা দি ফোন করতে বলেন। ফোন করলে বলেন, 'তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে'! আমার এত দুঃখ হয়েছে। আমি বললাম দিদি আপনি আমাকে এই কথা বলতে পারলেন? সেই কারণে আমি মনে করলাম আমার আনুগত্যে প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে। আমি মনে করি এই পরিস্থিতিতে আর আমার কাজ করা উচিৎ নয়।"


অভিমানী চন্দ্রিমার দাবী, 'আমার আনুগত্যে কোনও খামতি নেই। বেদনাহত মন নিয়ে আমি ছেড়ে দিলাম।" কালীঘাটে আর যাওয়ার প্রশ্নই আসে না বলেও জানান প্রাক্তন মন্ত্রী।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad