'বেইমানিরও একটা সীমা থাকা উচিৎ', তৃণমূলের বিদ্রোহীদের তোপ মমতার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, July 4, 2026

'বেইমানিরও একটা সীমা থাকা উচিৎ', তৃণমূলের বিদ্রোহীদের তোপ মমতার


কলকাতা: মমতার হাত ছেড়ে একে একে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন একাধিক বিধায়ক। এবারে সেই সকল বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন থেকে বিজেপিকেও এক হাত নেন মমতা। এমনকি জানিয়ে দেন রাজ্য সভাপতির দায়িত্বও আপাতত তিনিই সামলাবেন। পাশাপাশি কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রকে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তুলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার স্পষ্ট বার্তা, কর্মীরাই দলের সম্পদ। শনিবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। 


তিনি বলেন, "দু'টো মাসও ধৈর্য ধরতে পারলেন না! এত তাড়াতাড়ি বেইমানি করে চলে গেলেন! বেইমানি করারও তো একটা সীমা থাকা উচিৎ! যে পার্টি আপনাদের কাছে জন্মদাত্রী মা! আপনারা তো সরাসরি বিজেপি করছেন এখন! বিজেপি করবেন আর তৃণমূল বলবেন, এটা তো হতে পারে না!"


তিনি বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শ বিজেপি বিরোধী। আমাদের একটা আদর্শ, নীতি আছে। আপনারা যারা বেইমান-গদ্দাররা বিজেপির কথায় চলছেন, বিজেপি স্পনসর্ড যাঁরা। যদি সাহস থাকে, বুকে পাটা থাকে, যান বিজেপিতে গিয়ে জয়েন করুন। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তবু বুঝব যে, বিজেপি-তে গিয়েছেন। বিজেপিতে থেকে দল ভাঙার চক্রান্ত! ভাবেন কি যে আমি মরে গিয়েছি! ভাবেন কি আমাদের কর্মীরা মরে গিয়েছে! ভাবেন কি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস মরে গিয়েছে!"


মমতা বলেন, "মনে রাখবেন, আপনার পক্ষে সরকার আছে বলে, তাকে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করিয়ে প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন। যদিও আমরা জানি প্রতীক আপনার পক্ষে যাবে না। কিন্তু ধরে নিলাম, যদি ভ্যানিশ কুমার বাবু আমাদের পার্টিকে ফিনিশ করার জন্য যদি প্রতীক দিয়েও দেন, তাতে কী যায়-আসে! প্রতীক সেটাই হয়, যেটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসরা গ্রহণ করে। আমি এই প্রতীকচিহ্ন নিয়ে এক মাস ২২ দিনের মাথায় আমি কিন্তু লড়াই করেছিলাম। তখন প্রতীকটা কাউকে চেনাতে পারিনি কাউকে। এখন দরকারে আমি গলায় সিম্বলটা ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যখন বেরোব, আপনারা কি আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন! অত সস্তা নয়! কণ্ঠ রোধ করতে হলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলতে হবে। তাঁর তো চেষ্টা কম করেননি।"


মহুয়া মৈত্র, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। পাশাপাশি তৃণমূল ভবনে ঋতব্রতদের তালা দেওয়া নিয়েও মমতা সরব হন। তিনি নথি দেখিয়ে দাবী করেন, ওই ভবনের ভাড়া তাঁরাই দেন। এরই সঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর পদত্যাগ নিয়েও মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেন, "টাকা দিয়েছে কারা! তৈরি করেছে কারা! আর আজকে গিয়ে আপনারা তালা দিয়ে চলে এলেন! তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, এফআইআরও করা হয়েছে। কেন দিলেন এবং আজকেই তার জন্য কাউকে পদত্যাগ করতে হল।" 


শনিবারেই তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এর জন্য অবশ্য মমতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। শুক্রবার ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল ভবন দখল প্রসঙ্গ টেনেই তিনি দাবী করেন, মমতার কথায় বেদনাহত হয়েই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। যদিও চন্দ্রিমার পদত্যাগের কারণ এটা নয় বলেও দাবী করেন মমতা। তিনি বলেন, "আসল ঘটনা তা নয়। উনি অনেকদিন ধরেই আমাকে বলছিলেন পদত্যাগ করবেন। কারণ ওনার ছেলে গিয়ে আগেই গিয়ে হাত মিলিয়েছেন। আমার তার জন্য কিছু বলার নেই ভালো বুঝেছে তাই হাত মিলিয়েছে। তাঁদের লাগেজ-ব্যাগেজ থাকতে পারে। কিন্তু আমি তো হাত মেলাব না।"


মমতার স্পষ্ট বার্তা, "আপনারা একজন কোথায় গেলেন না গেলেন, আই ডোন্ট কেয়ার।‌ আমি আপনাদের সবাইকে ইগনোর করি। কারণ আমি নেতা নয়, কর্মী চাই। আমি যেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত না হই।" পাশাপাশি তিনি বলেন, "আমি কর্মীদের জন্য আছি, সাধারণ মানুষের জন্য আছি।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad