'ও যা কর্ম করেছে', বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে মৃত প্রভাসকে দেখতেই চান না 'মা' - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, July 8, 2026

'ও যা কর্ম করেছে', বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে মৃত প্রভাসকে দেখতেই চান না 'মা'

 


দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুরের নৃশংস কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে, এরপর থেকেই ছেলের শাস্তির দাবী জানিয়েছিলেন মা। বাড়িতে প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টের খবর পৌঁছতেই মা স্পষ্ট জানান, তিনি শেষবারের মতোও ছেলেকে দেখতে চান না। পরিবারের কেউ যাবে না। দেহ নিয়ে পুলিশের যা করার তা করতে পারে। মায়ের কষ্ট হওয়া স্বাভাবিক তা স্বীকার করেই বললেন, "ও যা করেছে, তাতে যা হয়েছে ঠিক হয়েছে। কর্মের ফল পেয়েছে।”


এনকাউন্টারে মৃত প্রভাসের মা বলেন, "পুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করে, আপনার ছেলের নাম প্রভাস মণ্ডল? আমি বললাম হ্যাঁ। তারপর বলল, আপনার ছেলে মারা গেছে। আপনি দেখতে চান? আমি বলেছি, দেখতে চাই না। আমরা কেউ যাব না। আপনারা যা করার করুন। মেয়েটার সঙ্গে যা করেছে, ওর সঙ্গে যা হয়েছে ঠিক হয়েছে। কর্মের ফল পেয়েছে।”


বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রথমই প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত ১২ টা ৪৫ নাগাদ ঘটনার পুনর্নিমাণ করতে প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুরের সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে। তদন্তকারীদের দাবী, সেই সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করেই গুলি চালায় প্রভাস। পালানোর চেষ্টা করে। সেই সময় বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।


নিয়মানুযায়ী বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পুলিশ পৌঁছয় প্রভাসের বাড়িতে। কিন্তু মৃতের মা সন্ধ্যা মণ্ডল সাফ জানিয়ে দেন তাঁরা দেহ নেবেন না। প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, "ও যা কর্ম করেছে, মারা গেছে, ও যেরকম দুষ্কর্ম করেছে, আমার কোনও আর আপত্তি নেই, কষ্ট নেই, আর দুঃখ নেই। ও যেরকম একটা মেয়েকে কষ্ট দিয়ে মেরেছে, ও তো সেই মরেছে। আমরা আনব না। আমার কেউ নেই। আমি ও দেখতে পারব না। আমি ওর আর কিছু করব না।"


উল্লেখ্য, বারুইপুর কাণ্ডে মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় এর আগে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার ও প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে।পাশাপাশি গণপিটুনি ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad