কলকাতা: রেশন দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তথা বালুর। এবার স্ক্যানারে বালু কন্যা প্রিয়দর্শিনীও। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদে থাকাকালীন বিপুল খরচা করেছেন বালু-কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। শুধুমাত্র গত অর্থবছরেই ক্যান্টিনের বিল ১ কোটি টাকার বেশি। এত বিপুল খরচা কীভাবে? প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জমা পড়েছে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই;শুরু হয়েছে চাপানউতোর। আগেই এই বিপুল খরচ নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন ফাইন্যান্স অফিসারও।
সূত্রের খবর, বিভিন্ন জায়গায় একাধিক প্রোগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই ক্যান্টিনকে। এখন বিপুল খরচার কথা স্বীকার করেছেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। বিস্ফোরক দাবীও করেছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট কথা, তদন্ত হলে কমিটির কাছে সব বলব। এখন টেন্ডারেও প্রাথমিকভাবে অসঙ্গতির অভিযোগ জমা পড়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
তৎকালীন সভাপতি চিরঞ্জীব বলছেন, “এতটা বিল নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না। এটা নিয়ে সেই সময় ফিন্যান্স অফিসারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি চিন্তিতও ছিলাম। সে জন্য ফের টেন্ডার ডাকা হয়। যে কোনও বিষয়ে তদন্ত হতেই পারে। আমাকে যদি ডাকা হয় তাহলে সেখানে আমি যা বলার সেটা বলব।”
প্রসঙ্গত, বর্তমানে আশুতোষ কলেজের মাইক্রো বায়োলজির অধ্যাপক হিসাবে কাজ করছেন প্রিয়দর্শিনী। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন সচিব করা হয়। এর আগে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সেক্রেটারি ইন চার্জ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব হিসাবে কাজ করছিলেন তাপস মুখোপাধ্যায়। কিন্তু কোনও স্থায়ী সচিব ছিল না। এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পরেই তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিকাশ ভবনের স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে তাঁকে সচিব পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় এবং ফের তাঁকে তাঁর পুরনো কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিয়দর্শিনী।
তাঁর দাবী, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই একটি সংস্থা ক্যান্টিন পরিষেবার বরাত পেয়েছিল এবং সেই সংস্থার সঙ্গে কোনও লিখিত চুক্তিপত্রও ছিল না। পাশাপাশি তিনি বলেন, সংসদের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সভাপতির হাতেই থাকে। তাঁর কথায়, 'আমি এখানে ঢুকে দেখছি একটা সংস্থা আগে থেকেই বরাত পায়। তাঁদের সঙ্গে আবার চুক্তির কোনও কাগজ নেই। আর দিনের শেষে প্রেসিডেন্টই সর্বোচ্চ। তিনিই শেষ কথা, তিনিই বলতে পারবেন কেন মান্যতা দিয়েছিলেন। উনি হয়তো মনে করেছেন খরচার প্রয়োজন আছে তাই করেছেন।'
তবে, প্রাক্তন মন্ত্রী-কন্যার আমলে এই বিপুল খরচ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

No comments:
Post a Comment