কলকাতা: নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লীতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছে কলকাতায়। আর আরশোলাদের সমর্থন জানিয়ে শুক্রবার বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা প্রতিবাদ মিছিল পরিণত হয়েছে তুমুল বিশৃঙ্খলায়। মিছিল শেষে ধর্মতলায় বিক্ষোভের নামে রীতিমতো তাণ্ডব হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ছোড়া হয়। রেহাই পাননি আন্দোলনের খবর করতে যাওয়া সাংবাদিক, চিত্রসাংবাদিকরাও। 'আরশোলা' সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়া 'বহিরাগত'দের হামলায় আক্রান্ত হয়েছে সংবাদমাধ্যম। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ভর্তি এসএসকেএমে হাসপাতালে। রাতেই তাঁদের দেখতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁদের জন্য সাংবাদিকদের এই অবস্থা, তাঁদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও আক্রান্তদের দেখতে হাসপাতালে যান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন রাত প্রায় সাড়ে ৯টা নাগাদ এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের চারজন সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক চিকিৎসাধীন। আহতদের খোঁজখবর নিয়ে, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কড়া বার্তা, "কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, ওদের কী করতে হয়, আমি জানি।”
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, শুক্রবার দিন বিশেষ দিন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন না। শুক্রবার সব ছাড় আছে। ওই শুক্রবারের লোকেরাই করেছে। চিহ্নিত করেছি, এদের সঙ্গে নিটের কোনও সম্পর্ক নেই।" মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন না, 'শুক্রবার'। শুক্রবার তো ওরা একটু করবে'। তাই আজকে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবারিরা যারা করেছে তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। এদের কী করতে হয়, আমি জানি।"
এর পাশাপাশি সমাজমাধ্যম পোস্টেও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লিখেছেন, "কলকাতায় কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে আহত সাংবাদিকদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। সাংবাদিকদের ওপর এই ঘৃণ্য হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রতিবাদের নামে গুণ্ডারাজ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।"
মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএমে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন। বিরোধী দলনেতার মন্তব্য, “এটা কোনও ছাত্র আন্দোলনের রূপ নয়। এটা চূড়ান্ত স্বৈরাচার। যেসব ভিডিও দেখলাম, তাতে প্রতিবাদীদের যা কথা শুনলাম, তাতে আমি বিস্মিত। ভাবতেই পারছি না এটা ছাত্রদের আন্দোলন!”
এদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার বিষয়ে মুখ খুলেছেন মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তা দেদীপ্ত গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “ঝামেলা চাইলে আসবেন না। যাঁরা অশান্তি চাইছেন তাঁদের আন্দোলনে আসার প্রয়োজন নেই। এই গুন্ডামি আমরা চাইছি না। আমরা আমাদের দাবী নিয়েই আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

No comments:
Post a Comment