ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ জুলাই ২০২৬: ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কিছু অংশ চীন অবৈধ ভাবে কব্জা করে রেখেছে। শুক্রবার একথা স্পষ্ট করেছে ভারত। ভারত দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছে যে, তারা কখনও চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি; বরং চীন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে চীনকে এক হাত নিয়েছেন।
এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের বিরুদ্ধে ভারতের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন যে, চীন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ড অবৈধভাবে দখল করেছে।
মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়াল বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে চীনের প্রকল্পগুলো নিয়ে সরকারের আপত্তি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে সার্বভৌমত্বের বিষয় আসলে ভারতই উত্থাপন করে। ভারত কোনও ভাবেই চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে না এবং এ বিষয়ে তার অবস্থান সবসময় একই রকম রয়েছে।"
জয়সওয়াল বলেন, "১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে চীন। যদিও চীন নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অঞ্চলগুলোর ওপর ভারতের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় ভূখণ্ডে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীন এবং আমরা এর বিরোধিতা করি।"
ম্যানিলায় আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর তাঁর চীনা প্রতিপক্ষ ওয়াং ই-এর সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন পর এই ঘটনা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, ওয়াং বলেছেন যে, কাজান ও তিয়ানজিনে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো চীন-ভারত সম্পর্ককে সংস্কার ও উন্নয়নের সঠিক পথে চালিত করেছে।
ওয়াং বলেন, “চীন ও ভারত প্রতিযোগী নয়বরং অংশীদার; তারা একে অপরের জন্য হুমকি নয়, সুযোগ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আদান-প্রদান ক্রমান্বয়ে পুনরায় শুরু হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, “এই অর্জনগুলো সহজে আসেনি এবং এগুলোকে সম্মান করা উচিৎ।”

No comments:
Post a Comment