ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০২ জুলাই ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পানামা খাল প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া উচিৎ হয়নি। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, নিয়ন্ত্রণ লাভের পর পানামা জাহাজগুলো থেকে নেওয়া শুল্ক কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে আর এখন চীন এই কৌশলগত জলপথের ওপর তার প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এটা হতে দেবে না।
থিওডোর রুজভেল্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়, তখন পানামা সবার প্রথমে জাহাজ চলাচলের শুল্ক চারগুণ বাড়িয়ে দেয়। তা সত্ত্বেও, খালটি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা কমেনি। পরে, শুল্ক আরও দু'বার বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু তারপরেও জাহাজের সংখ্যায় কোনও হ্রাস ঘটেনি। ট্রাম্প বলেন, পানামা বছরের পর বছর ধরে এর থেকে বিপুল মুনাফা করেছে এবং এই সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন যে, চীন এখন পানামা খালের ওপর তার প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা কখনই হতে দেবে না। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেন, "এখন চীন পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেটা আমরা হতে দেব না।" তিনি আরও বলেন যে, এটি তাঁর পরিকল্পিত ভাষণের অংশ ছিল না, কারণ তিনি লিখিত স্ক্রিপ্ট ছাড়াই কথা বলতে পছন্দ করেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যটি সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সাথে সম্পর্কিত, যার অধীনে ১৯৭৭ সালে টোরিজোস-কার্টার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির ভিত্তিতে, যুক্তরাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ পানামার কাছে হস্তান্তর করে এবং ১৯৯৯ সালে পানামা এই জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
ভাষণের সময় ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আদালত এই মামলায় ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী যে ভবিষ্যতে এই সমস্যার সমাধান হবে।
ট্রাম্প বলেন যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধানটি ধনী দেশগুলোর মানুষের জন্য ছিল না। তাঁর মতে, এই বিধানটি গৃহযুদ্ধের পর দাসদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন যে, ব্যক্তিগত বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ধনী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়নি।
ট্রাম্প সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়কেও স্বাগত জানিয়েছেন, যা নির্বাহী সংস্থাগুলোর প্রধানদের অপসারণ করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে এবং এটি রাষ্ট্রপতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২৯ জুনের এক যুগান্তকারী রায়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত রাখার ৯১ বছরের পুরোনো একটি ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। এখন সিনেট-অনুমোদিত নির্বাহী সংস্থার প্রধানদের অপসারণ করার ব্যাপক ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, এই বিষয়টি প্রায় ১০০ বছর ধরে বিতর্কের বিষয় হয়ে আসছে। তিনি দাবী করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতার রায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। তিনি যুক্তি দেন যে, বর্তমান যুগে রাষ্ট্রপতির আরও শক্তিশালী ক্ষমতা প্রয়োজন এবং সাম্প্রতিক সব সিদ্ধান্তের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

No comments:
Post a Comment