উত্তর ২৪ পরগনা: এবারে বিজেপি নেতাকে ডিম থেরাপি। ঘটনা নিউটাউন এলাকার। দীর্ঘদিন ধরে এক বৃদ্ধার ফ্ল্যাট দখল করে রাখার অভিযোগ ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বিজেপি নেতাকে গ্ৰেফতার করে পুলিশ। ধৃতের নাম বরুণ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ থানায় নিয়ে আসার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে উত্তেজিত জনতা। সেই সময়ে 'চোর চোর' স্লোগান দেয় এলাকার লোকজন। ডিম থেরাপির পাশাপাশি ওই বিজেপিকে নেতা কিল, চড় মারা হয় বলেও অভিযোগ।
অভিযোগ, তিনি এলাকার একটি বিলাসবহুল আবাসনে বৃদ্ধা অনিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। প্রথমদিকে ভাড়ার চুক্তি নিয়মমাফিক নবীকরণ হলেও পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।
অনিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবী, প্রায় দু'মাস আগে তিনি বরুণ বিশ্বাসকে ফ্ল্যাট খালি করে দেওয়ার জন্য জানান। সেই সময় বিজেপি নেতা নাকি জানান, তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, তাই কিছুটা সময় প্রয়োজন। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটে থাকার আবেদন করেন।
সেক্ষেত্রে বিজেপি নেতা প্রায় ৫ বছর সময় চান বলেই দাবী বৃদ্ধার। ইতিমধ্যে আর ভাড়াটিয়ার সঙ্গে চুক্তিপত্র রিনিউ না হওয়ায় ভাড়া নেননি বলেই জানান বৃদ্ধা। ২০১৯ সালে মার্চ মাস থেকে আর এক পয়সাও ভাড়া পাননি বৃদ্ধা। বর্তমানে বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। ওই বৃদ্ধা সোসাইটিকে জানান। বিজেপি নেতাকে ঘর ছাড়ার কথা বলা হয়। তবে বিজেপি নেতা ঘর ছাড়েননি বলেই অভিযোগ।
এরপর বাধ্য হয়ে ওই বৃদ্ধা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেই দাবী। সেই সময় তৎকালীন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান বৃদ্ধার।
তাতেও তাঁর সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি। এরপর ২০২০ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। দিনের পর দিন সেই মামলা চললেও শুনানিতে হাজিরা দিচ্ছেন না ভাড়াটিয়া। আপাতত ঝুলেই রয়েছে মামলা। তবে তা সত্ত্বেও মেনটেনেন্স চার্জ এবং পুরসভার কর দিতেই হচ্ছে বৃদ্ধাকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্ল্যাটে যান ওই বৃদ্ধা। তখনই বিজেপি নেতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা জড়ো হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী।
অভিযোগ, পুলিশের সামনেই চেয়ারে বসে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বরুণ বিশ্বাস। সেই সময়ে থানায় যেতেও অস্বীকার করেন তিনি। পরে পুলিশ তাঁকে টানতে টানতে গাড়িতে তোলে। সেই সময় আবাসিকরা 'চোর চোর' স্লোগান দিতে থাকেন এবং তাঁর দিকে ডিম ছুড়ে মারেন। পাশাপাশি চলে, কিল, চড়, ঘুষি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর নয়া ট্রেন্ড এই ডিম থেরাপি। দুর্নীতি কাটায় বিদ্ধ অনেক তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য ডিম ছোড়া হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিস্তর। এমনকি এটা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-ও। এই জিনিস বিজেপি নেতাকর্মীদের সঙ্গেও হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। আর এদিন সেই ঘটনাই ঘটল। ডিম খেতে হল বিজেপি নেতাকে। সম্ভবত রাজ্যে এই প্রথম কোনও বিজেপি নেতা ডিম খেলেন।

No comments:
Post a Comment