ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১০ জুলাই ২০২৬: ফ্রান্স ২-০ গোলে মরক্কোকে পরাজিত করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। রাজধানী প্যারিসে এই বিজয় শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হলেও, লণ্ডনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল ভক্তদের বিশাল জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সহিংসতার আশঙ্কায় প্যারিসে নিরাপত্তা বাহিনী আগেই মোতায়েন করা হয়েছিল, কিন্তু ব্রিটেনের রাজধানী লণ্ডনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরক্কোর পরাজয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিম লণ্ডনের এজওয়্যার রোডে বিপুল সংখ্যক বিক্ষুব্ধ সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। ভিড়টি দ্রুত সহিংস বিক্ষোভের রূপ নেওয়ায় পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হতে হয়।
'দ্য সান'-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রান্সের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পশ্চিম লণ্ডনে ভিড়ের মাঝেই হামলায় একজন পুলিশ আধিকারিক আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মীরা এজওয়্যার রোডে একটি বিশাল জনতার ভিড়কে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে, আহত পুলিশ কর্তাকে রাস্তায় শুয়ে থাকতে দেখা যায় এবং মেডিকেল টিম তাঁর চিকিৎসা করছে। এদিকে, অন্য পুলিশদের ঢাল হাতে সারিবদ্ধভাবে উন্মত্ত ভিড়ের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
ম্যাচের আগে আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে, উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো এবং তার প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের মধ্যে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচটির পর প্যারিসে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সৌভাগ্যবশত, প্যারিসের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। ফরাসি দলের বিজয় উদযাপন করতে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আসে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্স জুড়ে নিরাপত্তার জন্য ২০,০০০-এরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮,০০০ জনকে শুধুমাত্র প্যারিসেই মোতায়েন করা হয়। ফরাসি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগেই সতর্ক করেছিল যে, গত মে মাসে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার মতো পরিস্থিতি আবার দেখা দিতে পারে এবং তা সহিংসতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে, এবার ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচের পর প্যারিসে সহিংসতার পরিবর্তে আনন্দ ও উল্লাসের পরিবেশ দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রেখেছেন এবং বৃহস্পতিবার বস্টনে মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে দলের প্রথম গোলটি করেন। এরপর উসমান দেম্বেলে দ্বিতীয় গোলটি করে ফ্রান্সের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন এবং সেমিফাইনালে তাঁদের জায়গা নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে এমবাপে আরও একটি বড় কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
মরক্কোর বিপক্ষে এই গোলটি ছিল এমবাপের ক্যারিয়ারের ২০তম বিশ্বকাপ গোল। তিনি তিনটি বিশ্বকাপ আসরে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন; ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬। তিনি এখন লিওনেল মেসির ২১টি বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে আছেন। চলতি টুর্নামেন্টে এটি এমবাপের অষ্টম গোল, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সমকক্ষ করে তুলেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন উভয় খেলোয়াড়েরই আটটি করে গোল রয়েছে।

No comments:
Post a Comment