ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১০ জুলাই ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শুক্রবার মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্টেডিয়ামে উপস্থিত খেলোয়াড় ও অন্যান্যদের সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাৎ করেন। অস্ট্রেলিয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। মেলবোর্ন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতে বিগ ব্যাশ লিগ আয়োজনের ঘোষণাও দেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছেন যে, ভারত প্রথম বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) ম্যাচ আয়োজন করবে। তিনি বলেন, চেন্নাই বিবিএল ম্যাচটি আয়োজন করবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন যে, ভারতে প্রথম বিগ ব্যাশ লিগ ম্যাচটি ১২ই ডিসেম্বর চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম বিগ ব্যাশ লিগ ম্যাচটি চেন্নাইয়ের ক্রিকেট গ্রাউন্ড চিপকেতে খেলা হবে।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড পরিদর্শনের বিষয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীও। তিনি এক্স পোস্টে ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, "প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সাথে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড পরিদর্শন করাটা চমৎকার ছিল। খেলাধুলার প্রতি অনুরাগ ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে।"
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্রুত বর্ধনশীল কৌশলগত সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেছেন এবং ক্রিকেটের প্রতি দুই দেশের অভিন্ন অনুরাগের কথা উল্লেখ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে সঙ্গে নিয়ে মোদী ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি ও গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরম্যাটের উদাহরণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "যেহেতু আমরা বিশ্বের ক্রীড়া রাজধানী মেলবোর্নে আছি, তাই খেলা নিয়ে কথা না বলাটা হবে টসের পর ক্রিকেট ম্যাচ শুরু না করার মতোই।" তিনি আরও বলেন, "ক্রিকেট হল ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের কূটনৈতিক ভাষা। একারণেই আমাদের বৈঠকগুলোও ক্রিকেটের মতো, এর আলোচ্যসূচি একটি ওডিআই ম্যাচের মতো সুনির্দিষ্ট থাকে।" তিনি আরও যোগ করেন, "সিদ্ধান্তগুলো একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতো দ্রুত হয় এবং জুটিগুলো একটি টেস্ট ম্যাচের মতো দীর্ঘ ও গভীর হয়।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আগামী বছরগুলোতে উভয় দেশই অলিম্পিক ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।" প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের আয়োজক স্বত্ব নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, "এটি শুধু আমাদের ক্রীড়া সহযোগিতাই বাড়াবে না বরং ক্রীড়া পরিকাঠামোতে বিনিয়োগের অনেক সুযোগও তৈরি করবে।" মোদী-আলবেনীয় শীর্ষ সম্মেলনের পর, দুই পক্ষ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাত সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রী বুধবার ইন্দোনেশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন। এটি ছিল তাঁর তিন দেশ সফরের দ্বিতীয় পর্ব, যার লক্ষ্য পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক আবহে বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মজবুত করা।


No comments:
Post a Comment