ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০২৬: দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ। এরপর ফিনল্যান্ডের সমুদ্র থেকে উদ্ধার হল হায়দ্রাবাদের ছাত্রের দেহ। পড়ুয়ার এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কির উপকূলবর্তী সমুদ্র থেকে উদ্ধার হয় হায়দ্রাবাদের ছাত্রের মরদেহটি। মৃতের নাম মণিদীপ রেড্ডি গুজ্জার, বয়স ১৮ বছর। তিনি গত ৫ই মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। মণিদীপের পরিবারের আইনজীবী কেএলবি কুমার এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি শনিবার জানান যে, ভারতীয় দূতাবাস শুক্রবার পাঠানো একটি ইমেইলে বলেছে, ফিনল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে হেলসিঙ্কির উপকূলে সমুদ্র থেকে মণিদীপ রেড্ডির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের আইনজীবী তদন্তের সমালোচনা করে বলেছেন যে, এই ঘটনাটি অসংখ্য সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর মরদেহ উদ্ধার এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে যথাযথ তদন্তের অভাব অত্যন্ত সন্দেহজনক। পরিবার মনে করছে এটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু। তারা পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবী জানিয়েছে।
১০ই জুলাই, ফিনল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে মণিদীপের পরিবারকে জানায় যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হেলসিঙ্কির উপকূলবর্তী সমুদ্র থেকে মণিদীপ রেড্ডি গুজ্জার নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই খবরে পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। মণিদীপের বাবা জি. মুথ্যম রেড্ডি এবং মা মমতা রেড্ডি তাঁদের ছেলের জন্য সাহায্য চেয়ে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এখন পরিবারটি ন্যায়বিচার ও সত্যের সন্ধান করছে।
মণিদীপ ফিনল্যান্ডের লাপেনরান্তা-লাহতি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি (এলইউটি ইউনিভার্সিটি)-এর লাহতি ক্যাম্পাসে ব্যাচেলর অফ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জানা গেছে, তিনি লাহতি শহরের রিতানিমেনকাতু এলাকায় থাকতেন। তাঁর পরিবারের মতে, তিনি ২০২৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। তাঁর মা মমতা রেড্ডি এর আগে জানিয়েছিলেন যে, গত ৫ই মে মণিদীপ তাঁকে ফোন করে ৫,০০০ টাকা চেয়েছিল। তাঁর মা সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন। এর কয়েক ঘন্টা পরেই নিখোঁজ হয়ে যায় ওই পড়ুয়া।
ফিনল্যান্ডের পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, মণিদীপ লাহতি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে হেলসিঙ্কিতে যাওয়ার জন্য বাসে প্রায় ২,৫০০ টাকা খরচ করেছিলেন। হেলসিঙ্কিতে পৌঁছানোর পর তাঁকে একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয় খেতে এবং একটি শপিং মলে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে শেষবার শপিং সেন্টারের পথ ধরে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। এরপর তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তারপর থেকে তাঁর সাথে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর থেকে মণিদীপের বাবা-মা বারবার জানতে চেয়েছেন, কেন তাঁদের ছেলে হঠাৎ লাহতি ছেড়ে হেলসিঙ্কি চলে গেলেন? কোনও চাপ ছিল কি? কোনও শত্রু ছিল কি? নাকি অন্য কোনও কারণ ছিল? দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর মা মমতা রেড্ডি বলেন, "আমরা জানি না ওর কী হয়েছে। ও শুধু সামান্য কিছু টাকা চেয়েছিল, তারপর হঠাৎ উধাও হয়ে গেল।"
অন্যদিকে, পরিবারের আইনজীবী কেএলবি কুমার বলেন, "৫ই মে যা ঘটেছে তা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। দুই মাস ধরে মরদেহটি কোথায় ছিল? তদন্তকারী সংস্থাগুলো সময়মতো কী পদক্ষেপ করেছিল? আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করছি, ফিনল্যান্ডে যাওয়া, মরদেহ শনাক্ত করা এবং শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য বাবা-মাকে সম্ভাব্য সব ধরণের সহায়তা প্রদান করা হোক।" তিনি ফিনল্যান্ডের কর্তৃপক্ষকেও পুরো ঘটনা, হেলসিঙ্কিতে যাওয়ার কারণ এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ তদন্ত করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করার জন্য অনুরোধ করেন।

No comments:
Post a Comment