ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৭ জুলাই ২০২৬: কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা। এরপর থেকে ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে আর এটার প্রতিক্রিয়া না দিয়ে ছাড়া হবে না।
শনিবার, ইরান প্রকাশ্যে কাস্পিয়ান সাগরে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করার জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, শনিবার ভোরের এই হামলায় জাহাজটিতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে, এতে একজন নাবিক নিহত এবং অন্য একজন গুরুতর আহত হন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন যে, এই ঘটনা নিয়ে তিনি ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কায়া কাল্লাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এটিকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, ইউরোপকে যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে ইজরায়েলের নির্দেশে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই নেতার সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কিয়েভের এই পদক্ষেপের জবাব না দিয়ে থাকা হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটি বিস্ফোরিত হয়, এতে নাবিকদের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয় আরও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেনি। ইরান এই সংঘাতে কোনও পক্ষের মিত্র হওয়ার দাবীও প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো টেলিগ্রামে দাবী করেছে যে, ড্রোন হামলায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন এবং ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে নিশানা করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর, ইরানের সরকারি টেলিভিশন জানিয়েছে যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে (চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স) তলব করেছে। এই হামলাকে একটি বৈরী ও অপরাধমূলক কাজ আখ্যা দিয়ে ইরান তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতি তাদের বিরোধিতা প্রকাশ করেছে।

No comments:
Post a Comment