ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ জুলাই ২০২৬: 'রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধুমধাম, ভক্তরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।' আর এই মহা ধুমধামের মধ্যেই পুরীর মর্মান্তিক ঘটনা। বৃহস্পতিবার রথযাত্রায় উপচে পড়ে ভক্তদের ভিড়। ভিড়ের চাপে রীতিমতো বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে দু'জনের। ভিড়ের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন জ্ঞান হারান এবং আরও অনেকে আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাহান্ডি অনুষ্ঠানের সময় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। জানা যাচ্ছে যে, বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় বহু লোক আহতও হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী শতাধিক আহত হয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মহাপ্রভুর পাহান্ডি এবং চালমালা নামানোর পর, হাসপাতাল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি মোড়ের কাছে ভক্তদের বিশাল ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। এ সময় একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ভক্ত পড়ে যান। তাঁরা পড়ে গেলে, রাস্তার পাশে ভিড়ের চাপে কাছাকাছি থাকা আরও বেশ কয়েকজন ভক্ত চাপা পড়ে আহত হন। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একজন ভক্ত হাসপাতালে মারা যান এবং অন্যজনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল চত্বরে আত্মীয়-স্বজনের বিশাল ভিড় জমেছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রশাসন জানিয়েছে যে, কোনও পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেনি বরং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দম বন্ধ হয়ে এক মহিলা ভক্তের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আরেকটি পৃথক ঘটনায়, ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত যুবককে কেওনঝরের বাসিন্দা অনিল দাস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যান্ড রোডে (বড়া দণ্ড) মরিচিকোট চকের কাছে পুলিশের কর্ডন থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে বিশাল ভিড়ের মধ্যে শ্বাসকষ্টে ভুগে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত পুরী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার রথযাত্রা দেখতে গ্র্যান্ড রোডে বিশাল জনসমাগমের সময় এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
ওড়িশার ডিজিপি ওয়াই.বি. খুরানিয়া জানিয়েছেন যে, উৎসবের জন্য পুরীতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জন আইপিএস ও প্রায় ১৩,০০০ অন্যান্য পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন যে, এ ছাড়াও সিআরপিএফ, বিএসএস, আরএএফ সহ কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর ১৫টি কোম্পানিকে কৌশলগত স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ড্রোন-জ্যামার সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত মোট ৪৭৩টি এআই-ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দুটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার ‘বড়া দণ্ডা’ ও তার আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁরা আরও জানান যে, ভারতীয় নৌবাহিনী, ভারতীয় কোস্ট গার্ড এবং ওড়িশা পুলিশ মেরিন পুলিশ স্টেশনের যৌথ টহল পরিচালিত হচ্ছে এবং কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) মোতায়েন করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment