'কারগিল বিজয় দিবস'-এ বীর সেনাদের শ্রদ্ধা মোদী-শাহ-র, কী লিখলেন? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, July 26, 2026

'কারগিল বিজয় দিবস'-এ বীর সেনাদের শ্রদ্ধা মোদী-শাহ-র, কী লিখলেন?

 


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ জুলাই ২০২৬: 'কারগিল বিজয় দিবস'-এ দেশের বীর সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও। শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজমাধ্যম পোস্ট করেছেন মোদী-শাহ। 


এক্স পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, "কারগিল বিজয় দিবসে, আমাদের জাতি ভারতকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের অসাধারণ সাহস ও নিষ্ঠার জন্য বীর সৈন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে তাঁদের বীরত্ব চিরকাল জাতীয় গর্বের উৎস হয়ে থাকবে। তাঁদের অটল দেশপ্রেম এবং কর্তব্যনিষ্ঠা প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।"


অমিত শাহ এক্স পোস্টে লিখেছেন, "ভারতীয় সেনাবাহিনীর অদম্য শৌর্য এবং অসাধারণ বীরত্বের প্রতীক 'কারগিল বিজয় দিবস'। ১৯৯৯ সালে, হিমালয়ের দুর্গম তুষারাবৃত শিখরে, প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং উচ্চভূমিতে অবস্থিত শত্রু ঘাঁটি সত্ত্বেও, আমাদের বীর জওয়ানরা 'অপারেশন বিজয়'-এর মাধ্যমে শত্রুদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছিলেন। 'কারগিল বিজয় দিবসে' আমি সেই সকল বীর সন্তানদের স্মরণ করি ও শ্রদ্ধা জানাই, যাঁরা সর্বোচ্চ বলিদান দিয়ে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করেছেন।"


উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৬শে জুলাই দেশজুড়ে 'কারগিল বিজয় দিবস' পালিত হয়। ১৯৯৯ সালের এই দিনে কারগিল যুদ্ধে ভারত পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিল। এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের গোপনে দখল করা বেশ কয়েকটি উঁচু পর্বতশৃঙ্গ পুনরুদ্ধার করে। এই বিজয়কে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


১৯৯৯ সালে পাকিস্তানি সৈন্য ও অনুপ্রবেশকারীরা গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। তারা কারগিলের বেশ কয়েকটি উঁচু পর্বতশৃঙ্গ দখল করে নেয়, যেখান থেকে তারা শ্রীনগর-লেহ মহাসড়কের ওপর নজর রাখতে পারত। এই খবর জানতে পেরে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই সমস্ত অবস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য ‘অপারেশন বিজয়’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে।


টাইগার হিল কারগিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ ছিল। এটি পুনরুদ্ধার করা কঠিন ছিল, কারণ শত্রুরা উঁচু স্থানটি দখল করে রেখেছিল। বেশ কয়েকদিন যুদ্ধের পর, ভারতীয় সৈন্যরা টাইগার হিলে পুনরায় তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করে। এই বিজয় সমগ্র জাতির মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছিল।


শত্রুর কাছ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুনরুদ্ধার করা প্রথম শৃঙ্গগুলোর মধ্যে টোলোলিং অন্যতম ছিল। এই বিজয় সেনাবাহিনীর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর বাকি শৃঙ্গগুলোতে দ্রুত গতিতে পরবর্তী অভিযানগুলো শুরু করা হয়।


প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী একে একে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ পুনরুদ্ধার করে। ফলস্বরূপ, ১৯৯৯ সালের ২৬শে জুলাই ভারত কারগিল যুদ্ধে জয়লাভ করে। সেই থেকে প্রতি বছর ২৬শে জুলাই কারগিল বিজয় দিবস পালিত হয়। এই দিনটি সেই সকল জওয়ানদের স্মরণে উদযাপন করা হয়, যাঁরা দেশ রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। 'কারগিল বিজয় দিবস' ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্ব, সাহস এবং আত্মত্যাগের কথা আমাদের সকলকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad