নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: বন্ধ থাকা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল অসংখ্য ডিজিটাল রেশন ও ভোটার কার্ড সহ সরকারি নথি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুর বসাকপাড়া মোড় সংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এখানকার এই কার্যালয়ে ডিজিটাল রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড ছাড়াও মৎস্যজীবী পরিচয়পত্র-সহ বিভিন্ন সরকারি নথি উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নবদ্বীপ থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নথিগুলি নিজেদের হেফাজতে নেয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির নবদ্বীপ উত্তর মণ্ডলের সহ-সভাপতি তন্ময় কুণ্ডু জানান, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়ার জন্য ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অস্থায়ী শিবির পরিচালনা করছিল বিজেপি। তাঁর দাবী, স্থানীয় তৃণমূলের কয়েকজন নেতা-নেত্রী ওই বন্ধ কার্যালয়টি ব্যবহারের জন্য বিজেপির হাতে তুলে দিতে সম্মত হন এবং কয়েকদিন আগে কার্যালয়ের চাবি তাঁদের হাতে দেওয়া হয়।
তাঁর অভিযোগ, শনিবার কার্যালয় খুলে দেখা যায়, একটি ঘরের আলমারি খোলা অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে থাকা কম্পিউটারটি নেই। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, মৎস্যজীবী পরিচয়পত্র-সহ বিভিন্ন সরকারি নথি। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে অধিকাংশ নথিই এলাকার বাসিন্দাদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায় বলে দাবী বিজেপির।
রবিবার পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নবদ্বীপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া নথিগুলি সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। বিজেপির দাবী, উদ্ধার হওয়া নথির সংখ্যা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি হতে পারে।তন্ময় কুণ্ডুর অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের সরকারি নথি দলীয় কার্যালয়ে রেখে দিয়েছিলেন, যার ফলে বহু মানুষ সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যার মুখে পড়েছেন। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের দাবী জানিয়েছে বিজেপি।
এদিকে, বন্ধ দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি নথি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায় ওই দলীয় কার্যালয়ের সামনে। যে সমস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের নথি উদ্ধার হয়েছে তাঁদের স্থানীয় থানার সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তৃণমূলের কোনও প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেলেনি।

No comments:
Post a Comment