ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৩ জুলাই ২০২৬: গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসে ৪৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বন্যায় প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার রাতভর ভারী বর্ষণে রাজধানীর কিছু অংশ জলমগ্ন হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, ৫ জুলাই থেকে ৪৪ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই মৃত্যুগুলোর বেশিরভাগই ভূমিধসের কারণে ঘটেছে, অন্যরা বন্যা ও ফুলে ওঠা নদীতে ভেসে বা ডুবে মারা গেছেন। বন্যায় আনুমানিক ২,৬৭,৯১৮টি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে (প্রধানত উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশে) ১,১০০টিরও বেশি অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে প্রায় ৪৪,৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
এর আগে ৮ জুলাই, দক্ষিণ-পূর্বের কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে একটি ভয়াবহ ভূমিধস আঘাত হানে, এতে সাতজন শিশু ও তাদের শিক্ষক নিহত হন।
শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা ও প্রধান বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বর্ষণে শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়েছে এবং রাস্তাগুলো কার্যত পুকুরে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন থেমে গেছে বা আটকে পড়েছে, ফলে মানুষের ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আহমেদ বলেন, "সারারাতের বৃষ্টিতে আমার বাড়ির উঠান ও চারপাশের রাস্তাঘাট পুরোপুরি ডুবে গেছে।"
বন্যা কবলিত মৌলভীবাজারের (উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ) একজন স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেছেন যে, "অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ডুবে যাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে তাঁদের ডুবে যাওয়া বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় মানুষ রান্নাও করতে পারছে না।"
বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মতে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম জেলাগুলোতে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। দেশের ৪৫টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে সাতটিতে নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
আবহাওয়া বিভাগ বাংলাদেশের সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্য মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। এতে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে।

No comments:
Post a Comment