শঙ্করপুরের নিখোঁজ ট্রলারের খোঁজ মিলল বকখালিতে, উদ্ধার ৫ দেহ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, July 13, 2026

শঙ্করপুরের নিখোঁজ ট্রলারের খোঁজ মিলল বকখালিতে, উদ্ধার ৫ দেহ

 


দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কয়েকদিনের আপ্রাণ লড়াইয়ের পরে অবশেষে সন্ধান মিলল শঙ্করপুরের নিখোঁজ ট্রলারের। মৃত্যু হয়েছে ৫ জন মৎস্যজীবীর। নিখোঁজ ১০ জন। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচরের কাছে ডুবন্ত অবস্থায় ট্রলারটিকে শনাক্ত করা হয়। রবিবার বনদফতর, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানা, সুন্দরবন পুলিশ, উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের যৌথ অভিযানে ট্রলারটি উদ্ধার করে গোবর্ধনপুরের সীতারামপুর উপকূলে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর ট্রলার থেকে একে একে ৫ মৎস্যজীবীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি ১০ জন মৎস্যজীবীর কোনও সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। 


পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার শঙ্করপুর বন্দর থেকে গত ২ জুলাই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ‘মা কালী’ ট্রলারটি। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই পুলিশ, কোস্টগার্ড, বনদফতর ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানে বনদফতরের এসটিআরএফ টিমের চিত্রক ভট্টাচার্য, রামগঙ্গা রেঞ্জের রেঞ্জার কোবির হোসেন-সহ বনকর্মী এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 


অনুমান করা হচ্ছে, দুর্যোগের কারণে ট্রলারটি উল্টে যাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন। ঘটনার খবর পেয়ে শঙ্করপুর থেকে ট্রলারের মালিকপক্ষ কাকদ্বীপ ও নামখানায় পৌঁছেছেন। মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো মৎস্যজীবীদের একাধিক ট্রলার দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে উপকূলের দিকে টেনে নিয়ে আসে।


সন্ধ্যায় ট্রলারটিকে পাথরপ্রতিমার সীতারামপুর ঘাটে আনা হয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে পাঁচ জনের মৃতদেহ মিলেছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। তবে, তা শনাক্ত হয়নি। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর এদিন সীতারামপুর ঘাটে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত প্রক্রিয়া তদারকি করেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, আইন মেনে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে ট্রলারে জমে থাকা জল বের করে খোল, কেবিন ও অন্যান্য অংশে তল্লাশি চালানো হয়েছে। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। 


ট্রলারটি তল্লাশি করলে তা থেকে একে একে ৫ জনের দেহ উদ্ধার হয়। প্রশাসনের আশঙ্কা, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় কেউ ভেতরে আটকে পড়ে থাকতে পারেন। তল্লাশি শেষ হলে নিখোঁজদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad