কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে একের পর এক চমক। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই এক এক করে মমতার ঘনিষ্ঠরা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। হাতে গোনা কয়েকজন সাংসদ-বিধায়ককে মমতার আশেপাশে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে মদন মিত্র অন্যতম। কিন্তু সেই মদনও নাকি যোগ দিচ্ছেন বিরোধী শিবির ঋতব্রতদের সঙ্গে! রাজনীতির অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এই গুঞ্জন। কিন্তু ঠিক কেন এই গুঞ্জন? এর নেপথ্যে ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম বিশেষ মুখ সন্দীপন সাহার বাবা স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বৈঠক, তাও গোপনে। এমনকি এও জানা যাচ্ছে, সন্দীপনের সঙ্গে মদনের কথা হয়েছে ফোনে।
মঙ্গলবার ইডি কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে ডাকার পরেই হঠাৎ এই নাটকীয় ঘটনা, রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর ভেঙে চুরমার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল কংগ্রেস। এর নেপথ্যে মূল দুজন হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী ও পুত্রদের ইডি তলবের পর রাতেই সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে হাজির হন মদন।
জানা যায়, প্রায় ২ ঘন্টা সন্দীপনের বাবা অর্থাৎ এন্টালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন মমতার প্রিয় মদন। দু’জনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাক্ষাৎ যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তা বলাবাহুল্য। সন্দীপনের সঙ্গে যদিও এদিন দেখা হয়নি কামারহাটির বিধায়কের, তবে ফোনে কথা হয়েছে দু'জনের।
এ বিষয়ে সন্দীপন বলেন, 'মদন দা দীর্ঘদিনের সংগঠক, বিরাট বড় মাপের নেতা। ওনার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, জানিয়েছেন দেখা করতে চান। দেখা হলে নিশ্চয়ই কী চাইছেন সেটা বুঝতে পারব। উনি আমাদের সঙ্গে আসছেন কিনা সেটাও ভালো করে কথা বললেই জানতে পারব।”
এদিকে সূত্রের খবর, আজ অর্থাৎ বুধবার ফের দু’জনের ফোনে কথা হতে পারে। তারপরই স্পষ্ট হবে মদনের ভাবভঙ্গি। এদিকে আজই আনুষ্ঠানিকভাবে 'নতুন তৃণমূলে' যোগ দিতে চলেছেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল তথা কেষ্ট। বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর দেখা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিকেলে একুশে জুলাই নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠক হবে তপসিয়ায় জাভেদ খানের কার্যালয়ে। বিধানসভা থেকে সকলের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকে যেতে পারেন কেষ্ট মণ্ডলও।

No comments:
Post a Comment