'ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি'! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য আম পাঠাল ঢাকা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, July 1, 2026

'ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি'! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য আম পাঠাল ঢাকা


কলকাতা : বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই অনেকটা বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পটভূমি। বর্তমানে সেখানকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আমলে পরিস্থিতি উন্নতি হলেও সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। এরপরেও অব্যাহত রইল 'আম কূটনীতি'। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে যথাক্রমে যশোর জেলার বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের দুই রাজ্যে আম পাঠাল তারেক রহমান সরকার। 


মঙ্গলবার বেনাপোল স্থল সীমান্ত দিয়ে আম ভারতে প্রবেশ করে এবং প্রথমে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশনে গ্রহণ করা হয়। এরপর বুধবার তা মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।


জানা গিয়েছে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আম হস্তান্তর করা হয়েছে। শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঠানো আমের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম।


আরও জানা গিয়েছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের জন্য ১২০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই মিশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে মোট ১১০০ কেজি আম। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য ১০০ কেজি করে আম রয়েছে। বাকি ৯০০ কেজি আম দুই রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে।


মৌসুমি আমের আদান-প্রদান ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতির দীর্ঘদিনের এক অপরিহার্য অংশ। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে ইলিশ ও আম ব্যবহার করতেন। তিনি প্রায়শই বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই জিনিসগুলি পাঠাতেন। এমনকি তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও বাংলাদেশ ভারতে আম পাঠানো অব্যাহত রেখেছিল। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশের ইউনূস প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আম পাঠিয়েছিল। 


যদিও মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মৌলবাদীরা মাথাচাড়া দেয় পদ্মাপাড়ে। সেই সময় ভারতবিদ্বেষ চরম আকার নেয়। পরবর্তী নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন তারেক রহমান। আগের তুলনায় দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হলেও পরিস্থিত এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। এর মধ্যেও 'আম সৌজন্যতা' বজায় রাখল ঢাকা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আম পাঠালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


তবে এবার ঢাকার এই আম সৌজন্যতা মূলত দুটি কারণে বাংলার রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ জাগিয়েছে। প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কিছু মন্তব্যে বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ আপত্তি জানিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।


এছাড়াও, নথিবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কারণে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মধ্যে বেশ কয়েকবার বিবাদের ঘটনা ঘটে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে, বিএসএফ-এর প্রতিরোধ প্রচেষ্টা থামানোর চেষ্টাও করেছিল বিজিবি, যার ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে, সম্প্রতি উভয় পক্ষ অবৈধ সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।


এই প্রেক্ষাপটে, 'আম কূটনীতি' অর্থাৎ ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি' নয়াদিল্লীর, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে ঢাকার অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad