ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ জুলাই ২০২৬: ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই শুক্রবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, কতজন মন্ত্রী ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়। তিনি বলেন যে, আজকের যুবসমাজ ইনস্টাগ্রামে সক্রিয়। মোদী মন্ত্রীদের রিল পোস্ট করার পরামর্শও দেন এবং বলেন যে প্রত্যেক মন্ত্রীর ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় থাকা উচিৎ। সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে এই তথ্য জানিয়েছে।
ছাত্র আন্দোলন সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা পাচ্ছে। যুবসমাজ এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে এবং সে সম্পর্কিত রিল পোস্ট ও শেয়ার করছে। এটা দেখে অন্যান্য পড়ুয়ারাও আন্দোলনস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে। এখন প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় তাঁর মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় থাকার জন্য বলেছেন। পাশাপাশি এও বলেছেন, আমাদের সকলের জুড়ে থাকা প্রয়োজন।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশব্যাপী বিক্ষোভের মধ্যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দোষী সাব্যস্তদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া সংশোধনী বিল অনুমোদন করেছে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। সূত্রমতে, অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব বিচারের আওতায় আনার জন্য বিলটিতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন, কঠোর শাস্তি ও বিপুল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবারেই ঘোষণা করেছেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দায়ীদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। তিনি বলেছেন যে, যুবদের কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যারা তাদের ভবিষ্যতের সাথে আপস করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরে সেই রাতে, একটি ভিডিও বার্তায় তিনি ঘোষণা করেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার জন্য কঠোর শাস্তির বিধানসহ একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠার খসড়া আইনের উপর সরকার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নেবে এবং সংসদের এই অধিবেশনে একটি সম্পর্কিত বিল পেশ করবে। তিনি বলেছেন যে, খসড়া বিলটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিবেচনা করা হবে এবং বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাসের জন্য পেশ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে দিল্লীর যন্তর মন্তরে আরশোলা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে একটি ছাত্র আন্দোলন চলছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সিজেপি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবী করছে। তবে, সরকারি সূত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না, কারণ তা করলে তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। যেহেতু সরকার জনগণের রায় পেয়েছে, তাই তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। সিজেপি শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয়। এরপর বেশ কয়েকটি শহরে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়।

No comments:
Post a Comment