কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল এখন ক্রমেই শূন্যপুরীতে পরিণত হচ্ছে। ফিরহাদ, অনুব্রতর মত দীর্ঘদিনের সহযোগীরা একে একে মমতার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদা দুই ভরসাযোগ্য নেতা বনগাঁর বিশ্বজিৎ দাস ও রাজারহাট-নিউটাউনের তাপস চট্টোপাধ্যায় যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন তৃণমূলে। আর এদিনই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী তথা মমতার আরও এক প্রিয়ভাজন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর এতেই উঠছে প্রশ্ন , তাহলে রাজীবও কী এবার ঋত-তৃণমূলে?
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়েছিলেন। বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় নিজের ঘরে টাঙানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটি তিনি বুকে আগলে নিয়ে যান। তাতেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, দলনেত্রীর প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দলের একাংশের ‘একচেটিয়া’ মনোভাবের কারণেই তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এরপর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে নিজের কেন্দ্র ডোমজুড় থেকে বিজেপি প্রার্থী হন। কিন্তু তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।
এরপর ফের বছর খানেকের মধ্যেই তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন রাজীবের। তারপর ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গড়’ ডোমজুড় থেকে সরিয়ে তাঁকে ডেবরার প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন জায়গায় নির্বাচনী লড়াই জিততে কম পরিশ্রম করেননি রাজীব। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি, ডেবরায় হইহই করে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী।
হারের পর একেবারে আড়ালে চলে গিয়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় আড়াই মাস পর ফের প্রকাশ্যে এলেন। নিজের ফেসবুকে কভার ছবি থেকে সরিয়ে দিলেন মমতা, অভিষেককে। শুধুমাত্র নিজের ছবি দিলেন, যেখানে লেখা- 'মানুষের সাথে, মানুষের পাশে'। একপ্রকার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এনিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজীবের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে সবাই বলছেন যে, অভিষেক থাকলে তাঁরা দল করবেন না। অভিষেক সরে গেলে সকলে আবার একজোট হয়ে দিদির পাশে থাকবেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না যে এখনও কেন দিদি অভিষেকের হাতটা ধরে আছেন! এটা আমাদের নেতাদের কথা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অগণিত সাধারণ কর্মীদের মনের কথা এটাই।'
রাজীবের কথায়, 'আমার বক্তব্য হল, রাজনীতি করা মানুষের জন্য। সেই কাজই যদি না করতে পারি, কেন দলে থাকব?” তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘‘অভিষেক আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার, পরিবার সব শেষ করে দিয়েছে। যেসব আসন আইপ্যাক তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছে, সেখানেই পরাজয় ঘটেছে দলের প্রার্থীদের।”
তাহলে কী এবারে শিবির বদল? মমতার হাত ছেড়ে নতুন তৃণমূলের সঙ্গী হবেন? সেসব প্রশ্নের জবাব অবশ্য রাজীব দেননি। তবে, বঙ্গ রাজনীতিতে এখন বদলের মরসুম। চোখের পলক ফেলার আগেই কে, কখন টুক করে শিবির বদলে ফেলছেন, বোঝা বড় দায়! এবারে রাজীবও সেই পথে হাঁটবেন কি না, সেই উত্তর সময়ের অপেক্ষা।

No comments:
Post a Comment