বিনোদন ডেস্ক, ২৮ জুলাই ২০২৬: সনাতন ধর্মে শ্রাবণ মাসের গুরুত্বই আলাদা। গোটা মাসজুড়ে শিব-পার্বতীর পুজো করেন ভক্তরা। তাতে মহাদেবের আশীর্বাদ পাওয়া যায় বলেই বিশ্বাস। শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার উপবাস করে পুজোপাঠ করছেন অনেকে। তবে ব্যস্ততার কারণে কেউ কেউ ইচ্ছা থাকলেও দিনভর উপোস থেকে পুজো করতে পারেন না। পুজো করতে না পারার যন্ত্রণা যেন মনে কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে। তবে, এত ভাবার বিশেষ বিষয় নেই। এদিন পুজো না করে এই চার কাজ করলেও মিলবে মহাদেবের আশীর্বাদ।
শ্রাবণের প্রতিটি দিন মহাদেবের জলাভিষেক করুন। শিবের মাথায় দুধ, দই, চন্দন নিবেদন করতে পারলে ভালো হয়। তবে না পারলেও কোনও সমস্যা নেই। ভক্তিভরে জল ঢাললেই তুষ্ট হবেন মহাদেব।
ভগবান শিবের অত্যন্ত প্রিয় বেলপাতা। শ্রাবণের সোমবার ছাড়া বাকি দিনগুলিতে মহাদেবকে বেলপাতা নিবেদন করতে পারেন। তাতে ভগবান প্রসন্ন হবে। আপনার জীবন ধনসম্পদ ও সুখসমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে।
শিবের ব্রত পালন করতে না পারলে কোনও ক্ষতি নেই। তবে প্রতিদিন সকালে শিবের মন্ত্রপাঠ করতে ভুলবেন না। স্নান সেরে শুদ্ধবস্ত্রে শিবের মন্ত্র পাঠ করুন। তাতেই হবে পুণ্যলাভ।
শ্রাবণ মাসে দানধ্যান করতে ভুলবেন না। আপনার সাধ্যমতো গরীব, দুস্থদের দান করুন। তাতে ঘুচবে দুর্দশা। সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে জীবন।
শিব পুরাণ অনুসারে, যে ভক্ত বিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং ভক্তির সাথে শ্রাবণ মাসের উপবাস বা শ্রাবণ সোমবারের উপবাস পালন করেন, ভগবান শিব তাঁর সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করেন এবং তাঁকে সুখ, সমৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও আধ্যাত্মিক উন্নতির আশীর্বাদ করেন।
বিশ্বাস অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের বিষ পান করার পর দেবতারা এই মাসে ভগবান শিবের জলাভিষেক করেছিলেন। তখন থেকেই শ্রাবণ মাসে শিবলিঙ্গে গঙ্গার জল, দুধ, দই, মধু, বেলপত্র এবং ধুতুরা অর্পণের রীতি চলে আসছে।

No comments:
Post a Comment