বাঁধ উপচে ধেয়ে এল সমুদ্রের নোনা জল, প্লাবিত গোবর্ধনপুর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, July 18, 2026

বাঁধ উপচে ধেয়ে এল সমুদ্রের নোনা জল, প্লাবিত গোবর্ধনপুর


নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সমুদ্র বাঁধ উপচে নোনা জলে ঢুকে প্লাবিত হয়ে গেল পাথরপ্রতিমার জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুর এলাকা। বৃহস্পতিবার থেকে জোয়ারের সময় হঠাৎই গ্রামের পূর্ব-পশ্চিমের ১২০০ মিটার বেহাল সমুদ্র বাঁধ থেকে নোনা জল ঢুকে পড়ে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ৩০০ বিঘা কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৫০টি বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নোনা জল ঢুকে ধানের বীজতলা ও পুকুরের মাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এমনকি গ্রামের একটি নলকূপ নোনা জলে ডুবে গিয়েছে। যে কারণে এই মুহূর্তে ওই গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে। 


গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও হেলদোল নেই। তাঁদের দাবী, এখানে পাকাপোক্ত বাঁধ তৈরি করা না হলে, আগামী দিনে এই গ্রাম সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যাবে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে ওখানে নদী বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। পানীয় জল-সহ অন্যান্য বিষয়ে গ্রামবাসীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখা হয়েছে।


গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সমুদ্র বাঁধের দুরবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা ও ভরা জোয়ারের সময় একই ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। 


বছরখানেক আগে কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে ভেঙে যাওয়া বাঁধের পিছনে মাটির রিং বাঁধ তৈরির কাজ চলছিল। প্রায় ৬০০ মিটার বাঁধ তৈরি শেষ হয়েছে। বাকি অর্ধেক বাঁধ জমি অধিগ্রহণ করতে না পারায় কাজ শুরু করা যায়নি। ওই অংশে পুরোনো বাঁধের প্রায় কিছুই ছিল না। 


স্থানীয় গৃহবধূ কাজল আচার্য বলেন, 'জোয়ারের সময়ে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে পুরোনো বাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে সেই বাঁধ সাফ হয়ে যায়। হাতের কাছে যা পেয়েছি, এক কাপড়ে বাচ্চাদের নিয়ে উঁচু রাস্তার উপরে উঠে গিয়েছি। বাড়ির ভিতরে যা ছিল সব ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে গিয়েছে।'


এলাকার বাসিন্দা মনতোষ গুড়িয়া বলেন, "প্রতিবার বর্ষা ও কোটালের সময় একই সমস্যা দেখা দেয়। বহুবার প্রশাসনের কাছে বাঁধ সংস্কারের দাবী জানানো হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার নোনা জলে ফসল, মাছ, বাড়িঘর - সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ তৈরি না হলে ভবিষ্যতে গোবর্ধনপুরের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে।"


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাকাপোক্ত বাঁধের জন্য পঞ্চায়েত, প্রশাসন এবং বিধায়ককে একাধিকবার জানালেও লাভ হয়নি। উল্টে, বাঁধ নির্মাণের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়েছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রদীপ দাস বলেন, 'পরিস্থিতি ভয়াবহ। জলের তলায় শতাধিক বাড়ি। সরকারি সাহায্য না পেলে এই মানুষগুলো কীভাবে বেঁচে থাকবে জানি না। এই বাঁধ মেরামতি এবং নির্মাণের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছে তৃণমূল সরকার। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে সব টাকাই জলে চলে গিয়েছে।' 


প্রত্যেক বার বাঁধ তৈরির কাজে তৃণমূলের নেতাদের কাটমানি খাওয়ার ফলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি। অন্যদিকে এই বিষয়ে তৃণমূলের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad