আদিবাসী গৃহবধূকে গণধ-র্ষণ করে খুন! গ্ৰেফতার ২, তদন্তে ফরেনসিক দল - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, July 9, 2026

আদিবাসী গৃহবধূকে গণধ-র্ষণ করে খুন! গ্ৰেফতার ২, তদন্তে ফরেনসিক দল


নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান: আদিবাসী গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ। ঘটনায় তোলপাড় পূর্ব বর্ধমান জেলার দেওয়ানদিঘি। ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২। তদন্তে ফরেনসিক দল। দেওয়ানদিঘি থানার অন্তর্গত পালিতপুর ক্যানেলপাড় এলাকায় ওই আদিবাসী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 


মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পাঁচ সদস্যের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার পালিতপুর ক্যানেল সংলগ্ন একটি মাঠ থেকে ২৮ বছর বয়সি আদিবাসী গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শ্বশুরবাড়ি দিঘীরপাড়ে কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাপের বাড়ি পালিতপুরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। পরিবারের দাবী, সোমবার বিকেলে স্বামীকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওই বধূ। পরে তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রী তাঁর খোঁজেই বেরিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর হদিশ মেলেনি। 


এরপর মঙ্গলবার সকালে পালিতপুর ক্যানেল সংলগ্ন মাঠে তাঁর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয় এবং পরে খুন করে দেহ ফেলে দেওয়া হয়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।


মঙ্গলবার রাতে পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম শেখ আজিজুল ও শেখ ভদাই। পুলিশ জানিয়েছে, শেখ আজিজুলকে দেওয়ানদিঘি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শেখ ভদাইকে বীরভূমের নানুর এলাকা থেকে আটক ও পরে গ্রেফতার করা হয়। 


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার তাদের বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় বিচারক। ঘটনার প্রকৃত কারণ, অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি এবং অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


এদিকে তদন্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহে বুধবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাঁচ সদস্যের ফরেনসিক দল। বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। 


এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবীতে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। মঙ্গলবারই সিপিএমের পক্ষ থেকে দেওয়ানদিঘি থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে পুলিশের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের পক্ষ থেকেও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে দেওয়ানদিঘি থানায় স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবী, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad