নিজস্ব সংবাদদাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মেলেনি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রীতিমতো তুলকালাম পরিস্থিতি। জেলায় জেলায় বিক্ষোভের ছবি দেখে গিয়েছে বৃহস্পতিবার। মালদা থেকে জলপাইগুড়ি, পৌরসভায় তুমুল বিক্ষোভ।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় এদিন সরগরম হয়ে ওঠে পুরাতন মালদা পৌরসভা। বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যারা পৌরসভার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। এর জেরে কিছু সময়ের জন্য পৌরসভার সামনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবী, বহু যোগ্য উপভোক্তা এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পাননি। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণেই তৃণমূল পরিচালিত পুরাতন মালদা পৌরসভা প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করছে। অবিলম্বে সমস্ত বঞ্চিতদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দাবীতে তারা স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান।
এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন পুরাতন মালদা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর স্বপ্না দাস। তিনি অভিযোগ করেন, বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন পুরাতন মালদা পৌরসভার চেয়ারম্যান বিভূতি ভূষণ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা প্রদানের প্রক্রিয়ায় পৌরসভার কোনও ভূমিকা নেই। আবেদনপত্র বা নথিতে ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অযথা পৌরসভাকে দোষারোপ করা হচ্ছে বলেও তিনি পাল্টা দাবী করেন।
জলপাইগুড়িতেও একই চিত্র। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে তৃণমূল পরিচালিত হলদিবাড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন উপভোক্তারা। পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জনকল্যাণ শিবির মারফৎ হলদিবাড়ি পৌরসভা এলাকায় প্রায় ৩৭০০ জন মহিলা আবেদন করেছিলেন। কিন্তু টাকা পেয়েছেন মাত্র ১১০০ জন। জানা গিয়েছে, পৌরসভায় কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় এখনও অনেক আবেদনপত্র আপলোডই হয়নি। যদিও এই প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলছেন প্রয়োজনে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এছাড়াও বিক্ষোভের ছবি দেখা গিয়েছে বোলপুর ও রামপুরহাট পৌরসভায়। অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢোকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার বোলপুর পুরসভায় বিক্ষোভ দেখালেন মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার ঘোষণা করার পরেই তাঁরা বোলপুর পুরসভায় লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম তোলেন। পূরণ করে ফর্ম জমাও দেন। কিন্তু তার পরেও বুধবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি বলে অভিযোগ। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভার গাফিলতিতেই তাঁরা টাকা পাননি। যদিও এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুরসভার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পাশাপাশি, রামপুরহাট পুরসভাতেও এই একই কারণে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা।
নদিয়ার শান্তিপুরেও দুপুর থেকেই একটানা বিক্ষোভ চলে। উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিপাকে পড়েন পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ, ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামানিক। তাঁদের ঘিরেই চলে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দাবী, ১ জুলাই অধিকাংশ মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও এখনও হাজার হাজার উপভোক্তা টাকা পাননি।
তাঁদের দাবী, পৌরসভার আধিকারিকদের গাফিলতির কারণেই অন্নপূর্ণার যোজনার টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা। এর জবাব পৌরসভাকেই দিতেই হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছুটে আসে শান্তিপুর থানার পুলিশ। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুর আধিকারিকরা যদিও এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
এখানেই শেষ নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে সরগরম হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটও। বালুরঘাট মহকুমা শাসকের দফতরের সামনেও বিক্ষোভে সামিল হন শতাধিক মহিলা। তাঁদের দাবী, পৌরসভার মাধ্যমে অফলাইনে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান ও প্রকৃত উপভোক্তাদের ভাতা দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

No comments:
Post a Comment