আরজি করের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের নতুন মোড়। এবার নিহত চিকিৎসকের পরিবারের হাতে পৌঁছেছে দুটি রহস্যজনক চিঠি, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ফরেনসিক পরীক্ষার আগেই তাঁর ভিসেরা নমুনা অদলবদল করা হয়েছিল। এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা।
পরিবারের দাবি, প্রথম চিঠিটি তাঁদের হাতে আসে গত ১৬ মে। পরে ২৩ মে একই ধরনের অভিযোগ সম্বলিত আরও একটি চিঠি পৌঁছায়। চিঠির প্রেরক নিজেকে বেলগাছিয়ার রাজ্য ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারের এক প্রাক্তন কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিহত চিকিৎসকের ভিসেরা নমুনা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর আগেই রাজ্যের ফরেনসিক পরীক্ষাগারে তা বদলে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে পরীক্ষাগারের তিন আধিকারিকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই নামগুলি প্রকাশ্যে আনেনি নিহত চিকিৎসকের পরিবার।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন রাজ্য সরকারের নির্দেশেই এই কাজ করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিযোগ তোলা হয়েছে, তৎকালীন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাধিক কর্মীর ভিসেরা নমুনাও একইভাবে অদলবদল করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হতো।
নিহত চিকিৎসকের পরিবারের বক্তব্য, প্রথম চিঠি পাওয়ার পরই তাঁরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে জানান। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, এত গুরুতর তথ্য দেওয়ার পরও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। পরে দ্বিতীয় চিঠি হাতে পাওয়ার পর আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
নিহত চিকিৎসকের বাবার দাবি, চিঠিতে কারা ভিসেরা রিপোর্ট বিকৃত করেছে এবং কার নির্দেশে তা করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তাই আদালতের কাছে তাঁদের আবেদন, চিঠির সত্যতা যাচাই করে অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
এছাড়াও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার পরিবর্তনের পরও তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম কীভাবে একই পদে বহাল রয়েছেন। এই বিষয়েও তিনি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও পর্যন্ত সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আদালতের বিবেচনাধীন।

No comments:
Post a Comment