ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০২৬: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের, প্রেমিক ও তাঁর সহযোগীর সঙ্গে মিলে স্বামীকেই শেষ করে দিলেন মহিলা। গুজরাটের বানাসকান্থা জেলার ভাব-থারাদ এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা। পুলিশ এই মামলার রহস্য উদঘাটন করে এবং মৃতের স্ত্রী-সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিকটি হল, নিহত ও অভিযুক্ত মহিলার নয়টি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে আটজন মেয়ে ও একজন ছেলে। চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে আর বাকি চার ছোট মেয়ে ও একজন ছোট ছেলে এখন বাবা-মা দুজনের ভালোবাসা থেকেই বঞ্চিত। বাবাকে খুন করা হয়েছে এবং মা খুনের অভিযোগে শ্রীঘরে রয়েছেন। এমন ঘটনায় পুরো গ্রাম স্তম্ভিত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, গণেশপুরা গ্রামের বাসিন্দা গামাভাই ঠাকোর গত চার বছর ধরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। গত ৮ জুলাই তিনি রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও থারাদ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুন নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তদন্তের পরিধি বাড়ায়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে, মৃতের স্ত্রী নর্মদা ওরফে নবাবেন একই গ্রামের বাসিন্দা প্রেমজি প্যাটেলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন গামাভাই তাঁর জমিতে চাষ করে গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরে তিনি তাঁর স্ত্রীকে প্রেমজি প্যাটেল ও মুকেশ ঠাকুরের সঙ্গে দেখতে পান। এই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, বাদানুবাদের এক পর্যায়ে নর্মদা একটি কাঠের তক্তা দিয়ে গামাভাইয়ের মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর নর্মদা, প্রেমজি প্যাটেল ও মুকেশ ঠাকুর তাকে একটি খাটে শুইয়ে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। অপরাধ গোপন করার জন্য, পরের দিন অভিযুক্তরা পরিবার ও গ্রামবাসীদের জানায় যে গামাভাই স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন।
তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে সম্পূর্ণ ঘটনাটি প্রকাশ পায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থারাদ পুলিশ খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ করে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দিয়োদারের ডিএসপি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদে খুনের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমানে তিন অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল নাকি কোনও বিবাদের জের ধরে ঘটেছে, তা পুলিশ জানার চেষ্টা করছে।

No comments:
Post a Comment