স্বামীকে খুন করে বাথরুমের মেঝেতে পুঁতে রাখলেন স্ত্রী! ধামাচাপা দিতে ৪৫ দিন ধরে নাটক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, July 4, 2026

স্বামীকে খুন করে বাথরুমের মেঝেতে পুঁতে রাখলেন স্ত্রী! ধামাচাপা দিতে ৪৫ দিন ধরে নাটক


ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৪ জুলাই ২০২৬: স্বামীকে খুন করে বাথরুমের মেঝেতে পুঁতে রাখলেন স্ত্রী।‌শুধু তাই নয়, ভয়ানক এই কাণ্ড ঘটিয়ে স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার গল্প ফাঁদেন তিনি।‌ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের আগ্রা। স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ ওই মহিলার বিরুদ্ধে। এরপর অভিযুক্ত মহিলা প্রায় ৪৫ দিন ধরে পুলিশ ও প্রতিবেশীদের কাছে দাবী করেন যে, তাঁর স্বামী নিখোঁজ। কিন্তু ওই যে, কথায় বলে, 'আইনের হাত লম্বা, এর থেকে কেউ বাঁচতে পারে না'। এক্ষেত্রেও সেটাই হল। পুলিশ এই রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি বাথরুমের মেঝে থেকে দেহটি উদ্ধারও করে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম সুরেন্দ্র শর্মা এবং অভিযুক্ত স্ত্রীর নাম রুবি। সুরেন্দ্রকে প্রাণে মারার পর নিজের কীর্তি লুকাতে রুবি কোনও চেষ্টাই বাকি রাখেননি। সন্দেহ এড়াতে সে পুলিশি তদন্তে অংশ নেওয়ার ভান করে এবং প্রতিবেশীদের সামনে কেঁদে ভাসায়। সে চেয়েছিল সবাই বিশ্বাস করুক যে স্বামীর আকস্মিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত।


পুলিশ গত ৪৫ দিন ধরে এই নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে, সুরেন্দ্রের ভাই রুবির কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। ভাই যখন পুলিশের কাছে তাঁর সন্দেহ প্রকাশ করেন, তখন পুলিশ আরও গভীর তদন্ত শুরু করে। শ্রমিকসহ পুলিশের দলটি যখন সুরেন্দ্রের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পৌঁছায়, তখন তারা বাথরুমের মেঝেতে প্লাস্টারের একটি নতুন স্তর দেখতে পায়। সন্দেহবশত, পুলিশ প্লাস্টারটি ভেঙে ফেলে। আর এতেই সামনে আসে ভয়াবহ তথ্য। তাঁরা মেঝের নিচে সুরেন্দ্রের মৃতদেহ খুঁজে পায়। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে রুবিকে হেফাজতে নেয় এবং মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। 


ধৃত মহিলাটি পুলিশকে জানায় যে, তাঁর স্বামী মদ খেয়ে তাঁকে মারধর করত। সেই কারণেই সে ক্ষীরে ১৮টিরও বেশি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁর স্বামীকে খাইয়ে দেয়, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, 'আমি ফোন করে রাজস্থান থেকে আমার ভাসুরকে ডাকি কিন্তু তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দিইনি। আমি দুই সন্তান ও আমার শাশুড়িকে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে নিয়ে যাই এবং সেখান থেকে তিনজনকেই আমার ভাসুরের সাথে পাঠিয়ে দিই। এরপর আমি দেহটা ঘর থেকে টেনে বাথরুমে নিয়ে যাই এবং গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলি। আমি আমার ভাসুরকে বলি যে, আমার স্বামী আমার সাথে ঝগড়া করে ৫,০০০ টাকা নিয়ে গেছে। তারপর আমিও রাজস্থান চলে যাই। ৮ দিন পর ফিরে এসে একজন শ্রমিককে ডেকে বাথরুমের মেঝে তৈরি করিয়ে নিই।'


সুরেন্দ্র শর্মা মূলত রাজস্থানের ভরতপুরের বাসিন্দা। তিনি তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের সঙ্গে আগ্রায় বাস করতেন। রাজস্থানের ভরতপুরের বাসিন্দা সুরেন্দ্র কুমার শর্মা (৪৪) সিকান্দ্রার দহতোরার রেণুকা ধাম কলোনিতে থাকতেন। তিনি ২০১০ সালে রুবিকে বিয়ে করেন। রুবি ইটাওয়ার বাসিন্দা। তাঁদের দুটি মেয়ে আছে, ঋদ্ধি (১৩) এবং সিদ্ধি (৯)। সুরেন্দ্রের মা কমলাও তাঁর সাথে থাকতেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল। তাদের বাবা রাধেশ্যাম শর্মা একজন শিক্ষক ছিলেন এবং কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।


বড় ভাই অনিল শর্মা জানান যে, সুরেন্দ্র এবং রুবির মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল। ১৮ই মে, সকাল প্রায় ৯-১০টার দিকে, তিনি রুবির কাছ থেকে একটি ফোন পান। রুবি জানায় যে বাড়িতে তাদের বিরুদ্ধে একটি পুলিশি মামলা করা হয়েছে এবং সুরেন্দ্র যেন তার মা ও দুই সন্তানকে নিয়ে চলে যায়। সুরেন্দ্র বিস্তারিত জানতে চাইলে রুবি কিছু বলেনি; সে শুধু তিনজনকেই নিয়ে যেতে বলে।


তিনি পরে এও বলেন যে, সুরেন্দ্র জোর করে তালা খুলে, টাকা নিয়ে, ঝগড়ার পর চলে গেছে। সে ৫,০০০ টাকা নিয়েছিল। সে বলেছিল যে ২-৩ দিনের মধ্যে ফোন করে জানাবে সে কোথায় আছে।


অনিল বলেন, "১৯শে মে সন্ধ্যায় রুবি আমাকে আবার ফোন করে। সে বলে, 'এখানে আমার শরীর ভালো লাগছে না, দয়া করে আমাকে আমার বাচ্চাদের কাছে নিয়ে যাও।' ১৯শে মে আমি আগ্রায় এসে রুবিকে রাজস্থানে নিয়ে আসি। রুবি এবং তাঁর দুই সন্তান প্রায় ৭-৮ দিন তার বাড়িতে ছিল।"


তিনি বলেন, "যখন ৭-৮ দিন ধরে সুরেন্দ্রকে খুঁজে পাওয়া গেল না, তখন আমি ২৬শে মে আমার ভাই সুরেন্দ্র শর্মার জন্য নিখোঁজ রিপোর্ট দায়ের করি। রুবি পুরো পরিবার এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে থাকেন। তিনি পুলিশের সাথে তার স্বামীকে খুঁজতে লাগল এবং মাঝে মাঝে কান্নায় ভেঙে পড়তেন। এতে রুবির প্রতি আমার সন্দেহ হয়। শুক্রবার সকালে আমি রুবিকে বলি, "কাঁদলে তোমার সমস্যার সমাধান হবে না। যদি কিছু ভুল হয়, আমাকে বলো। যদি তুমি বিপদে পড়ো, আমাকে বলো... আমি তোমাকে বাঁচাব... আমি তোমার কোনও ক্ষতি হতে দেব না।" এতে রুবি ভেঙে পড়েন এবং সত্যিটা বলে দেন। 


পুলিশ যখন মেঝে ভাঙে, তখন দেহটি পচে গিয়ে শুধু কঙ্কাল পাওয়া যায়। শুক্রবার দুপুর ১২টায় অনিল পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশের একটি দল এসে ৫ জন শ্রমিককে ডাকে। শ্রমিকরা ২০ মিনিটের মধ্যে মেঝে ভেঙে ফেলে। এরপর তারা একটি গর্ত খোঁড়ে। যখন তারা দেখে, দেহটি পচে গিয়ে শুধু কঙ্কালটি পড়ে আছে। তাই শুক্রবার ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। শনিবার কঙ্কালটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এর জন্য ৫ সদস্যের একটি দল গঠন করা হবে।


বর্তমানে, পুলিশ তদন্ত করছে যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং মৃতদেহ পুঁতে ফেলার কাজে রুবির সাথে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad