নেপালে হড়পা বানে ৯৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয় - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, August 26, 2026

নেপালে হড়পা বানে ৯৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৬ আগস্ট ২০২৬: প্রতিবেশী দেশ নেপালের উত্তর দিকে স্থিত রাসুয়া জেলায় আঘাত হেনেছে এক বিধ্বংসী হড়পা বান। আকস্মিক এই বন্যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে। হড়পা বানের আঘাতে নদীর ওপর নির্মিত সেতু ও গ্ৰামের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১০৫ জন ভারতীয়-সহ প্রায় ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে ভোতেকোশি নদীতে হঠাৎ জলস্ফীতির কারণে এই বিধ্বংসী বন্যা দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন এবং সমস্ত হেলিকপ্টার কোম্পানিকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছেন।


স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায়, নেপালের উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক জলস্ফীতি (জিএলওএফ) বা বরফ গলার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই বিধ্বংসী বন্যার অসংখ্য ভিডিও সামনে আসছে। সেগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ভোতেকোশি নদীর আকস্মিক বন্যা নেপালের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সীমান্তের তিব্বত দিক থেকে বন্যার জল এসে নেপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং বেশ কয়েকটি গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।


নেপাল নিউজ কেন্দ্রীয় পুলিশের মুখপাত্র এবং উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) অবিনারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, নুয়াকোট এবং ধাদিঙ জেলা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের মতে, বন্যা-আক্রান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক। ওই আধিকারিক আরও জানান, রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন জওয়ান এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও জানিয়েছে যে, তাদের সাতজন জওয়ান নিখোঁজ রয়েছেন।


নেপালি সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ ত্রাণকর্মী মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, "ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে।" এদিকে, নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যায় সড়ক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) জানিয়েছে যে, তাদের অন্তত ছয়টি প্রধান জলবিদ্যুৎ ও সঞ্চালন কেন্দ্র—রসুয়াগধি, চিলিমে, ত্রিশুলি ৩এ, ত্রিশুলি ৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন, ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র—বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ বলেছে, "এই দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে... যার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।" আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নেপালের বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেপাল পুলিশ ও অন্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিব্বত সীমান্তবর্তী এই হিমালয়ী দেশটির বেশ কয়েকটি জেলার পার্বত্য উপত্যকা দিয়ে ঘোলা জল দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই জল গন্ডক নদী হয়ে বিহারের ছয়টি জেলায় পৌঁছাতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে, এই ছয়টি জেলা এবং এনডিআরএফ দলকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad